১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:০৯:৫২ অপরাহ্ন


মাতারবাড়ি ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সমন্বিত মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অনলাইন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-০৯ ১৯:৫৩:০৪
মাতারবাড়ি ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সমন্বিত মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছবি: সংগৃহীত


‘মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে সমন্বিত জ্বালানি ও শিল্প হাব গড়ে তোলা হবে’; শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলীদের পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্ট

      গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে অবস্থিত ১,২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ি আলট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সংলগ্ন অর্থনৈতিক মেগা প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।

আজ রবিবার (৯ আগস্ট ২০২৬) এক বিশেষ সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি মাতারবাড়ি পৌঁছান এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও মহেশখালীকেন্দ্রিক বৃহৎ অবকাঠামোগত উন্নয়নের গতি পর্যালোচনায় অংশ নেন।

হেলিকপ্টারযোগে আগমন ও বিস্তারিত ব্রিফিং


পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী আজ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। পৌঁছানোর পরই তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান।

সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বিস্তারিত ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান পরিচালন অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, প্ল্যান্টের কার্যক্ষমতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে অবহিত করেন।

  • শতভাগ দেশীয় জনবল পরিচালনা: ব্রিফিংয়ের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন যে, অত্যন্ত জটিল ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এই মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সম্পূর্ণ শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে দক্ষতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। এই তথ্য পাওয়ার পর তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশীয় প্রকৌশলীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁদের আরও উদ্যমে কাজ করার উৎসাহ প্রদান করেন।

  • স্মারক হিসেবে বৃক্ষরোপণ: ব্রিফিং অনুষ্ঠান শেষে স্মারকচিহ্ন হিসেবে প্রকল্প প্রাঙ্গণে একটি নিমের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রকল্প এলাকা ও প্রস্তাবিত মেগা অবকাঠামো সরেজমিনে পরিদর্শন


দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রশাসনিক ভবনের সূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বিভিন্ন চালু ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন:

  1. প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ও রিফাইনারি এলাকা: দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থানে যান এবং দুপুর ১২টা ২৯ মিনিটে সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সাথে প্রকল্পের ভৌগোলিক অবস্থান ও সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে কথা বলেন। একই স্থানে তাঁকে প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন তেল রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত জমি ও নকশা প্রদর্শন করা হয়।

  2. টার্মিনাল ও গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যবেক্ষণ: এরপর প্রধানমন্ত্রী এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এলাকা ঘুরে দেখেন। কোল জেটি পয়েন্ট থেকে তিনি সরাসরি নির্মিতব্য মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সঞ্চালন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন।

  3. ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা (৩ ও ৪ নম্বর ইউনিট): পরবর্তীতে তিনি প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি এলাকা এবং ভবিষ্যতে কোল পাওয়ার প্ল্যান্টের ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিট স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে মাঠপর্যায়ের এ পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

জ্বালানি নীতি ও টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা


পরিদর্শনকালে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান কাঠামোর অর্থনৈতিক ও দক্ষ ব্যবহারের ওপর বিশেষ তাগিদ দেন।

মাতারবাড়ি সমন্বিত বিদ্যুৎ ও মেগা প্রকল্পের মূল দিকসমূহবিবরণী ও তথ্য
বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল সক্ষমতা১,২০০ মেগাওয়াট (২টি ইউনিট × ৬০০ মেগাওয়াট)
ব্যবহৃত প্রযুক্তিআলট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল (Ultra-Supercritical) প্রযুক্তি
অর্থায়ন ও উন্নয়ন সহযোগীজাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA)
সমন্বিত আনুষঙ্গিক সুবিধাগভীর সমুদ্রবন্দর, কোল ও এলএনজি টার্মিনাল, একসেস রোড, সৌরবিদ্যুৎ ইত্যাদি
পরিচালনাকারী দলশতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ জনবল
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে জ্বালানি উৎসের বহুমুখী বৈচিত্র্য আনয়ন সময়ের দাবি। প্রতিটি বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত প্রকল্প পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মাতারবাড়ি কেন্দ্রিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কয়লা ও এলএনজি টার্মিনাল, শিল্প পার্ক এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের সম্মিলিত ও পরিকল্পিত ব্যবহার দেশের বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও সার্বিক অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

হাই-প্রোফাইল সফরসঙ্গী ও ঢাকা প্রত্যাবর্তন


প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে মন্ত্রিপরিষদ ও প্রশাসনের শীর্ষ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা।

পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাতারবাড়ি হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।