১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:১৮:৪০ পূর্বাহ্ন


৫ বৈশিষ্ট্যের মানুষ দীর্ঘদিন বাঁচে, জানাল ৭৫ বছরের গবেষণা!
স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-০৬ ২১:৪৬:৪৭
৫ বৈশিষ্ট্যের মানুষ দীর্ঘদিন বাঁচে, জানাল ৭৫ বছরের গবেষণা! ছবি: সংগৃহীত


দায়িত্বশীলতা, মুক্ত মানসিকতা ও আবেগ প্রকাশের ক্ষমতা বাড়ায় গড় আয়ু; বন্ধুর মূল্যায়নই নির্ধারণ করে দীর্ঘায়ুর পূর্বাভাস

     দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন পেতে সঠিক পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং শারীরিক পরিচর্যার পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে, তা প্রকাশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানের এক গবেষণায়। মানুষের কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্য কেবল সামাজিক সম্পর্ক উন্নত করে না, বরং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়ে গড় আয়ু বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।

মনোবিজ্ঞানবিষয়ক শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স’-এ প্রকাশিত ‘Your Friends Know How Long You Will Live: A 75-Year Study of Peer-Rated Personality Traits’ শীর্ষক ৭৫ বছর মেয়াদি এক গবেষণা পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসের প্রধান মনোবিজ্ঞানী জোশুয়া জে. জ্যাকসন ও তাঁর গবেষক দল প্রায় ৬০০ জনের ওপর এই বিস্তৃত পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করেন।

দীর্ঘায়ুর পেছনের ৫টি প্রধান ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্য


গবেষণায় প্রবীণ ও শতবর্ষী মানুষের জীবন বিশ্লেষণ করে দীর্ঘায়ু পাওয়ার ক্ষেত্রে ৫টি মৌলিক মানসিক বৈশিষ্ট্যের স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা:

  • ১. দায়িত্বশীলতা ও নিয়মানুবর্তিতা (Conscientiousness): পুরুষের দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর বৈশিষ্ট্য এটি। যারা পরিপাটি, নিয়মানুবর্তী, সতর্ক ও দায়িত্বশীল, তারা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি কম নেন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করেন। ২০০৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় চালানো পৃথক গবেষণাতেও এর সত্যতা মেলে।

  • ২. মুক্ত মানসিকতা ও নতুনকে গ্রহণের ইচ্ছা (Openness to Experience): নতুন চিন্তা, সৃজনশীল ধারণা ও ভিন্ন মতামতকে সাদরে গ্রহণ করার মানসিকতা মানসিক স্থবিরতা দূর করে এবং বার্ধক্যেও মস্তিষ্ককে তরুণ ও দারুণভাবে সচল রাখে।

  • ৩. মানসিক স্থিতিশীলতা (Emotional Stability): নারীদের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা সামলানোর ক্ষমতাই আয়ু বাড়ানোর প্রধান শক্তি। যারা কঠিন পরিস্থিতিতেও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে বাস্তবতাকে শান্তভাবে গ্রহণ করেন, তাদের হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেক কম থাকে।

  • ৪. বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ (Agreeableness & Extraversion): ৯৫ থেকে ১০০ বছর বয়সী প্রবীণদের ওপর পরিচালিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দীর্ঘজীবী মানুষরা সাধারণত অত্যন্ত হাসিখুশি, বহির্মুখী, সহজ-সরল এবং অন্যদের সাহায্য করতে ভালোবাসেন।

  • ৫. আবেগ প্রকাশের স্বাধীনতা (Emotional Expression): নিজের অনুভূতি, রাগ, কষ্ট বা আনন্দ ভেতরে চেপে না রেখে সবার সাথে ভাগ করে নেওয়া এবং প্রাণখুলে হাসার অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করে।

বন্ধুর চোখেই মিলবে দীর্ঘায়ুর পূর্বাভাস


গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হলো— আমরা নিজেদের যতটা নির্ভুল মনে করি, তার চেয়ে আমাদের কাছের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা আমাদের মানসিক বৈশিষ্ট্য ও ব্যক্তিত্বের যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেন। মাঝবয়সী ৩০০ দম্পতির ওপর বন্ধুদের মাধ্যমে ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করিয়ে দেখা গেছে, বন্ধুদের চিহ্নিত করা ইতিবাচক ব্যক্তিত্বের অধিকারীরাই বাস্তবে সবচেয়ে বেশি দিন বেঁচেছেন।

দীর্ঘায়ু নির্ধারণী বৈশিষ্ট্যসমূহলিঙ্গভিত্তিক প্রভাব ও দীর্ঘায়ুর প্রধান কারণ
দায়িত্বশীলতাপুরুষের ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী; অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়ানো ও স্বাস্থ্য সচেতনতা।
মানসিক স্থিতিশীলতানারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাবশালী; হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক অবসাদ রোধ।
মুক্ত মানসিকতামানসিক স্থবিরতা রোধ করে এবং বৃদ্ধ বয়সেও মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম ও উদ্দীপিত রাখে।
আবেগ প্রকাশ ও বন্ধুত্বশতবর্ষীদের প্রধান বৈশিষ্ট্য; মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি ও দীর্ঘ জীবনযাপনে সহায়ক।
যদিও ব্যক্তিত্বের কিছু দিক জিনগতভাবে নির্ধারিত হয়, গবেষকদের মতে সচেষ্ট চর্চার মাধ্যমে পরিবার, পরিবেশ, নিয়মিত শৃঙ্খল জীবনযাপন ও নতুন কিছু শেখার আগ্রহ বাড়িয়ে নিজেদের মধ্যে এসব ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য গড়ে তোলা সম্ভব।