১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:০২:৫৬ অপরাহ্ন


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা, নিয়মকানুন ও নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল
অনলাইন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-০৬ ২০:৫১:২৫
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা, নিয়মকানুন ও নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ছবি: সংগৃহীত


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬:
    
      আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা, অযোগ্যতা ও প্রার্থিতার নিয়মাবলি স্পষ্ট করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে কোনো ব্যক্তিকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং তাঁর বয়স অন্তত ৩৫ বছর হতে হবে। এ ছাড়া তাঁকে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে এবং অতীতে সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত ব্যক্তি এ পদে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো পৃথক বা নির্ধারিত মনোনয়ন ফি দিতে হয় না। তবে প্রতিটি মনোনয়নপত্রে জাতীয় সংসদের দুজন সদস্যের প্রত্যক্ষ সমর্থন আবশ্যক—যার একজন হবেন প্রস্তাবক এবং অন্যজন সমর্থক। এমনকি নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ও প্রার্থীর সঙ্গে অন্তত একজন সংসদ সদস্যের সশরীরে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করার পর সংবিধানের বিধান মেনে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের ভোটার তালিকা প্রকাশের পরপরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে জমা পড়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এই নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকা পালন করবেন।

তফসিল অনুযায়ী, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে প্রকাশ্য ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। ভোটের দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারসহ প্রতিটি সংসদ সদস্য একটি করে ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন। যদি প্রতিদ্বন্দ্বী একাধিক প্রার্থী থাকেন তবে ভোটগণনা শেষে বিজয়ী চূড়ান্ত হবে এবং সমসংখ্যক ভোট উঠলে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন নিষ্পত্তি করা হবে। অন্যদিকে, একক প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।