আদিয়ালা কারাগারে কারাবাসের ৩ বছর; স্বাস্থ্যগত কারণে গোপনে মুক্তির আলোচনার ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের
পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব, ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাজীবনের তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে চলতি সপ্তাহেই। রাওয়ালপিন্ডির সুরক্ষিত আদিয়ালা কারাগারের এক নির্জন কক্ষে বন্দী রাখা ‘কয়েদি নম্বর ৮০৪’ ইমরান খান দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ লোকচক্ষুর আড়ালে। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তাঁকে কারামুক্ত করার বিষয়ে নেপথ্যে এক গোপন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সাথে বিরোধের জের ধরে ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী হওয়ার পর ২৬ কোটি মানুষের দেশে ইমরানকে মাত্র একবার একটি অনলাইন আদালত শুনানির সময় ফাঁস হওয়া ছবিতে দেখা গিয়েছিল।
দ্য অবজারভার-এর চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ও মধ্যস্থতা
যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা ব্রিটিশ দৈনিক দ্য অবজারভার-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ও ইমরান খানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে—সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে কারামুক্ত করার বিষয়ে গোপনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইমরানের রাজনৈতিক প্রভাব ও সংবেদনশীলতার কারণে সরাসরি কোনো বৈঠক হচ্ছে না; বরং তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় তৈরি করা হয়েছে যোগাযোগের সেতু। আলোচনার সাথে যুক্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানকে চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বের করে আনতে ইমরান খানকে মাইনাস করে এগোনো সম্ভব নয় এবং দীর্ঘস্থায়ী এই অস্থিরতা দেশের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
স্বাস্থ্যগত কারণ ও পরিবারের আকুতি
অচলাবস্থা নিরসনে ৭৩ বছর বয়সী এই নেতাকে স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি দেওয়ার পথটি সবচেয়ে বেশি জোর পাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে তাঁর চোখে একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে, এমনকি সামাজিক মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর গুজব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।
| বিষয় | আপডেট ও বিবরণ |
| বন্দী জীবন | চলতি সপ্তাহে ৩ বছর পূর্ণ হচ্ছে (আদিয়ালা কারাগার) |
| বর্তমান বয়স | ৭৩ বছর |
| স্বাস্থ্যগত অবস্থা | চোখের অস্ত্রোপচার ও নির্জন কারাবাসে দ্রুত অবনতি |
| ছেলেদের আকুল আবেদন | আন্তর্জাতিক মাধ্যমে সুলাইমান ও কাসিম খানের বিবৃতি প্রকাশ |
ইমরান খানের দুই ছেলে—সুলাইমান ও কাসিম খান এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, “আমাদের বাবাকে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। নির্জন কারাবাসে তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছে। আমাদের তাঁর সাথে কোনো স্বাধীন বা নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।”
একই কথা জানিয়েছেন ইমরানের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারি। তিনি বলেন, আইনজীবী বা পরিবারের সাথেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না ইমরানকে। সরকারের মধ্যে ন্যূনতম দায়িত্ববোধ থাকলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বিবেচনা করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত।
এখন দেখার বিষয়, তৃতীয় পক্ষের এই কূটনৈতিক আলোচনা পাকিস্তানের রাজনীতিতে ‘কয়েদি নম্বর ৮০৪’-এর মুক্তি নিশ্চিত করতে পারে কি না।