১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪১:০১ অপরাহ্ন


‘পুতিনের সঙ্গে দেখা হলে এই প্রশ্নটা করতেই হবে!’ রুশ প্রেসিডেন্টকে কোন কথা জিজ্ঞাসা করতে চান ট্রাম্প?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-২৮ ১৮:৫৬:১৫
‘পুতিনের সঙ্গে দেখা হলে এই প্রশ্নটা করতেই হবে!’ রুশ প্রেসিডেন্টকে কোন কথা জিজ্ঞাসা করতে চান ট্রাম্প? রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প I ছবি: সংগৃহীত


উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাটিতে হামলায় ইরানকে সহায়তার অভিযোগ; মুখোমুখি সাক্ষাতে জট খুলতে চান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট

     পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে গভীর সামরিক সমঝোতার অভিযোগ এনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, পুতিনের সাথে দেখা হলে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় জিজ্ঞাসার জায়গা হবে—পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পেছনে রাশিয়া সত্যিই ইরানকে গোয়েন্দা বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করছে কি না।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস থেকে শুরু করে সম্প্রতি দ্বিতীয় দফায় আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নতুন করে চরম আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত একের পর এক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের চালানো হামলায় নেপথ্যে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত মদদ জোগাচ্ছে রাশিয়া। যদিও মস্কোর পক্ষ থেকে এই দাবিকে বারবার 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তবুও বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনা থামেনি।

ইতোমধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আমেরিকার হাতে বেশ কিছু গোয়েন্দা তথ্য তুলে দিয়ে দাবি করেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে সামরিক ও তথ্যগত সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। ওয়াশিংটন এই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি এ বিষয়ে পুতিনকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করব। আমরা এই তথ্য খুঁজে বের করব।”

তবে ট্রাম্প এটাও দাবি করেন যে, রাশিয়া যদি ইরানকে সহায়তাও করে থাকে, তাহলেও তা খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারছে না। কারণ আমেরিকান বাহিনী ও মিত্ররা ইরানকে কঠোর ও মোক্ষম জবাব দিচ্ছে। তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দানে যে বারবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, সত্যিই তার কোনো ভিত্তি রয়েছে কি না—পুতিনের মুখ থেকেই সেই জবাব চান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সামরিক সংঘাতের পর থেকে পুরো পশ্চিম এশিয়া যখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তখন থেকে রাশিয়া-ইরান মেলবন্ধন নিয়ে কূটনীতির ময়দানে কৌতূহল চরমে পৌঁছেছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প ও পুতিনের সম্ভাব্য সাক্ষাতে এই স্পর্শকাতর প্রশ্নটি কতখানি গুরুত্ব পায়।