গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে এসি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অনেকের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। তবে ঘর ঠান্ডা রাখতে গিয়ে অধিকাংশ ব্যবহারকারী একটি সাধারণ ভুল ধারণার বশবর্তী হন। অনেকেরই ধারণা, এসির তাপমাত্রা যত কমিয়ে রাখা হবে, ঘর বোধহয় তত দ্রুত ঠান্ডা হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা কমিয়ে রাখা মানেই দ্রুত শীতলতা নয়, বরং এটি বিদ্যুৎ খরচ ও মেশিনের স্থায়িত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা সেটিং সরাসরি বিদ্যুৎ বিলের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। সাধারণত ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালালে ঘরকে সেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় আনতে কম্প্রেসরকে দীর্ঘ সময় বিরতিহীনভাবে কাজ করতে হয়। এতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। এর বিপরীতে তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করলে ঘর সহনীয় পর্যায়ে ঠান্ডা হওয়ার পর কম্প্রেসর মাঝে মাঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এই সাময়িক বিরতিই শক্তি সাশ্রয়ে মূল ভূমিকা পালন করে। হিসাব অনুযায়ী, এসির তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি বাড়ানোর ফলে প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। অর্থাৎ ২৪ ডিগ্রির পরিবর্তে ২৬ ডিগ্রিতে এসি চালালে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলে প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।
খরচের হিসাবটি আরও স্পষ্টভাবে বুঝলে দেখা যায়, একটি ১.৫ টন এসি যদি গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ১.৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তবে ২৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় দৈনিক ৮ ঘণ্টা চালালে প্রায় ১২ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যুৎ মূল্য অনুযায়ী এর দৈনিক ব্যয় দাঁড়ায় ১০০ থেকে ১২০ টাকার মতো। কিন্তু তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রিতে রাখলে কম্প্রেসরের কাজের চাপ কমে যাওয়ায় দৈনিক খরচ ৭৫ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে নেমে আসতে পারে। এভাবে সচেতনভাবে এসি ব্যবহার করলে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলে প্রায় ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব, যা যেকোনো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটি বড় স্বস্তি।
আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও ২৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি কমিয়ে রাখলে বাইরে থেকে আসা মানুষের শরীরে হঠাৎ ঠান্ডা-গরমের একটি তীব্র ধাক্কা লাগে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'থার্মাল শক' বলা হয়। এর ফলে সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা বা শারীরিক অস্বস্তির ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিন্তু ২৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা শরীরের জন্য সহনীয় এবং এটি ঘরের আর্দ্রতা ও শীতলতার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখে। তাই পকেট এবং স্বাস্থ্য—উভয় দিক বিবেচনা করে এসির তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রিতে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।