১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৪০:০৮ অপরাহ্ন


বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে ডেকে নির্যাতনের, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী স্নিগ্ধার মামলা!
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-২৭ ১৪:০৪:৩৮
বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে ডেকে নির্যাতনের, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী স্নিগ্ধার মামলা! ছবি: সংগৃহীত


১ বছরের ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্টের কথা বলে খিলক্ষেতে অফিসে এনে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতনের বিবরণ; থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের!

     জনপ্রিয় 'প্রেশার কুকার' চলচ্চিত্রের নায়িকা স্নিগ্ধা চৌধুরীকে বিজ্ঞাপনের চুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে খিলক্ষেতে অবস্থিত আশিয়ান গ্রুপের নিজস্ব কার্যালয়ে এই মর্মান্তিক নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী অভিনেত্রী।

ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে স্নিগ্ধা চৌধুরী জানান, একটি নামীদামি প্রতিষ্ঠানের এক বছরের ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট বা বিজ্ঞাপনী চুক্তির কথা বলে ইমন নামের এক ব্যক্তি তাঁকে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সে সময় নিরাপত্তা ও সহায়তার জন্য নায়িকার সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা। তবে প্রাথমিক কথাবার্তা শেষে তাঁর মা কার্যালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরপরই পরিস্থিতির এক চরম এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মোড় নেয়।

ভুক্তভোগী অভিনেত্রীর দাবি, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান তাঁকে ভুলবশত ‘জেবা তাকিয়া’ নামের অন্য এক নারী মনে করে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। মূলত ওই নারী আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রতারণা করে বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়। সে সময় ইমন নামের ওই ব্যক্তি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা না করে উল্টো স্নিগ্ধাকে সেই মিথ্যা পরিচয়টি মেনে নেওয়ার জন্য ইঙ্গিত দিতে থাকেন।

তীব্র ক্ষোভ ও শারীরিক আঘাতের বিবরণ দিয়ে স্নিগ্ধা চৌধুরী বলেন, “রুমের ভেতর আমি একদম একা ছিলাম। উনি ঘরের ভেতরের সবাইকে বাইরে বের করে দিয়ে আমার হাত-পা বেঁধে ফেলেন। আমার হাত থেকে মোবাইল ফোনটি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে গলা চেপে ধরেন। এরপর একটি রশি দেখিয়ে আমাকে ভয় দেখিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। উনি বলেন—‘তোর মতো মেয়েকে প্রতিদিন মাটি চাপা দিয়ে রাখি, আমার কিছু যায় আসে না’।”

মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্তকে থামানোর আকুতি জানিয়ে অভিনেত্রী তাঁর নিজের সন্তানের কথা মনে করিয়ে দিলে অভিযুক্ত আরও হিংস্র হয়ে ওঠেন। স্নিগ্ধা জানান, তাঁর চুল টেনে ধরে সারা শরীরে এলোপাতাড়ি লাথি মারা হয়, যার ফলে তাঁর শরীরের একাধিক অংশ ফুলে রক্তাক্ত ও কালো হয়ে গেছে।

শরীরের একাধিক আঘাতের ক্ষতচিহ্ন দেখিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্নিগ্ধা বলেন, “আমার মা-বাবা জীবনে আমাকে একটা টোকা পর্যন্ত দেননি! আমি আমার মা-বাবার কাছে রাজকন্যার মতো বড় হয়েছি। অথচ সেখানে আমাকে চুল টেনে ধরে লাথি মারা হয়েছে। আমার গায়ে গরম কফি ঢেলে দেওয়া হয়েছে এবং চাকু দিয়ে মুখ কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি যদি কোনো অপরাধ করতাম, তবে যে শাস্তি দেওয়া হতো মাথা পেতে নিতাম। কিন্তু বিনা কারণে অন্য কোনো মেয়ের ওপর রাগ মিটাতে আমাকে কেন এভাবে নির্যাতন করা হলো? আমার অপরাধ কী?”

এই ন্যাক্কারজনক ও নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেছেন স্নিগ্ধা চৌধুরী। পুলিশ পুরো ঘটনা তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।