১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:৫০:৪৫ অপরাহ্ন


পদত্যাগ দাবিতে মোদির বাসভবনের সামনে ধরনায় বসলেন খাড়গে, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-২১ ১৯:৪৮:৩১
পদত্যাগ দাবিতে মোদির বাসভবনের সামনে ধরনায় বসলেন খাড়গে, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা! ছবি: সংগৃহীত


শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে নজিরবিহীন বিক্ষোভ; ৭ লোক কল্যাণ মার্গে অনড় বিরোধী নেতারা, পাশে ‘ইন্ডিয়া’ জোট!

নয়াদিল্লি: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে সাড়া দিয়ে দিল্লির সংসদ ভবন অভিমুখে যাওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত পুলিশি হামলার তীব্র প্রতিবাদে ভারতে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে সরাসরি তাঁর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ধরনায় বসেছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। আজ মঙ্গলবার বিকেলে কাউকে কোনো আভাস না দিয়ে অতর্কিতভাবেই নয়া দিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বসে পড়েন তাঁরা।

হঠাৎ আয়োজিত এই নজিরবিহীন ধরনায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদেরা, দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন এবং কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার উপস্থিত রয়েছেন। কংগ্রেস নেতাদের এমন আচমকা পদক্ষেপে মুহূর্তের মধ্যে হতচকিত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দায়িত্বরত বিশেষ নিরাপত্তা রক্ষীরা (SPG)। রাহুল-খাড়গেদের সেখানে বসে পড়ার খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই দলে দলে কংগ্রেস নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা লোক কল্যাণ মার্গে জড়ো হতে শুরু করেন। সেখানে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিতর্কিত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান দিচ্ছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ধরনা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (PMO) ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংকে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায়। তবে বৈঠক শেষে কংগ্রেস সংসদ সদস্য সৈয়দ নাসির হুসেন গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, “সরকারি প্রতিনিধিরা চাইছিলেন আমরা যেন এখান থেকে চলে যাই, কিন্তু আমরা রাজি হইনি। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতেই হবে।” তিনি জানান, আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে সারা দেশ থেকে অন্যান্য বিরোধীরাও এই ধরনায় অংশ নিতে দিল্লির পথে রয়েছেন।

ধরনায় বসার পর বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (X) একটি বিশেষ বার্তা দিয়ে রাহুল গান্ধী লেখেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এসে গেছি। গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া বর্বর পুলিশি অত্যাচারের জবাব চাইতেই আমাদের এই আগমন। এই সরকার কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না, এমনকি সংসদে কোনো সুস্থ বিতর্কও চায় না। দেশের লাখ লাখ তরুণ সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার অপরাধে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।”

পরবর্তীতে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় রাহুল গান্ধী ইংরেজি ও হিন্দিতে অপর এক বার্তায় সমগ্র দেশবাসীকে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদি ভাবেন কোনো জবাবদিহি ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন, কিন্তু এবার তা হবে না। আমাদের ছাত্ররা যেন সুবিচার পায়—এ কথা বিশ্বাস করেন এমন প্রতিটি দেশপ্রেমিক ভারতীয়কে আমি এই ধরনায় শামিল হওয়ার অনুরোধ করছি।”

কংগ্রেস নেতারা জানিয়েছেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ছাত্র নির্যাতনের প্রতিবাদে সংসদে আলোচনার দাবি নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে গেলে কোনো আশ্বাস পাননি রাহুল। এর পরেই তিনি দলের নেতাদের ডেকে নিয়ে মোদির বাসভবন অভিমুখে রওনা হন। এদিকে বিজেপি নেতারা অভিযোগ তুলেছেন, রাহুলদের এই অবস্থান কর্মসূচির কারণে প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষাবলয় বিপন্ন হচ্ছে। তবে তা অস্বীকার করে কংগ্রেস একে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলে দাবি করেছে। রাত সাতটাতেও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে এই ধরনা অব্যাহত ছিল। সেখানে কংগ্রেসের পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের অন্যতম শরিক এনসিপি (NCP) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, বিশিষ্ট আন্দোলনকর্মী যোগেন্দ্র যাদবসহ বহু বিরোধী নেতাকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়।