১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৩৪:১৯ অপরাহ্ন


ককরোচ পার্টির বিক্ষোভে রণক্ষেত্র দিল্লি, এবার বন্ধ হলো ইন্টারনেট!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-২০ ১৯:৪২:৫৩
ককরোচ পার্টির বিক্ষোভে রণক্ষেত্র দিল্লি, এবার বন্ধ হলো ইন্টারনেট!


সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত যন্তর মন্তর; ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টায় পুলিশ-আন্দোলনকারী সংঘর্ষ, আটক বহু

 ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংসদ ভবন অভিমুখে নবগঠিত যুব আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দিল্লি পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং আন্দোলনের তীব্রতা ঠেকাতে দিল্লির কেন্দ্রস্থল ও সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (২০ জুলাই) সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনেই যন্তর মন্তর এলাকা থেকে ‘চলো সংসদ’ মার্চের ডাক দেন হাজার হাজার তরুণ ও ছাত্র বিক্ষোভকারী। দিল্লির কেন্দ্রস্থলে ১৪৪ ধারা জারি এবং যেকোনো ধরনের সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করেই বিশাল মিছিল নিয়ে সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। আন্দোলনকারীরা সংসদের প্রবেশপথের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের বাধা দেয়। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে বিক্ষোভকারীদের তাড়া করছে এবং আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেডের সামনে রাস্তায় বসে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। আন্দোলনের গতিকে দুর্বল করতে এবং যন্তর মন্তরের ভেতরের পরিস্থিতি যেন বাইরে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্যই কর্তৃপক্ষ দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া আন্দোলনস্থলে সিগন্যাল জ্যামার ব্যবহারের কারণেও মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও ইন্টারনেট বন্ধের এই অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশ বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের মেডিকেল প্রবেশিকা (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অচলাবস্থার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোড়ন থেকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সংসদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে দিল্লির সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে এই মুহূর্তে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল নিয়ে এগোনোর অপরাধে আন্দোলনস্থলের প্রধান সমন্বয়কদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারীকে ইতিমধ্যেই হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। সব মিলিয়ে মেগা বিক্ষোভ ও লাঠিচার্জের ঘটনায় পুরো নয়াদিল্লিতে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।