১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৩১:০৬ অপরাহ্ন


কখন যৌথভাবে দেওয়া হয় বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট? জেনে নিন টাইব্রেকার নিয়ম
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-১৯ ১৮:২৭:৫৬
কখন যৌথভাবে দেওয়া হয় বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট? জেনে নিন টাইব্রেকার নিয়ম ছবি: সংগৃহীত


বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ এখন মহাযুদ্ধের শেষ লগ্নে উপনীত হয়েছে। ফুটবলারদের পাখির চোখ যেমন সোনালী ট্রফিটার দিকে, ঠিক তেমনি ব্যক্তিগত অর্জনের সর্বোচ্চ শিখর ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের লড়াইও এবার জমে উঠেছে চরমভাবে। এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির মতো বিশ্বসেরা তারকারা যখন সমানে সমান টক্কর দিচ্ছেন, তখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন জাগছে—যদি শেষ পর্যন্ত একাধিক ফুটবলারের গোলসংখ্যা একদম সমান হয়ে যায়, তবে কার হাতে উঠবে এই ট্রফি? ফিফা কি তবে পুরস্কারটি ভাগ করে দেবে, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো গাণিতিক সমীকরণ?

ফিফার অফিশিয়াল নিয়ম অনুযায়ী, গোলসংখ্যা সমান হলেই গোল্ডেন বুট যৌথভাবে বণ্টন করার কোনো সুযোগ নেই। রেসের ফিনিশিং লাইনে যদি একাধিক খেলোয়াড় একই গোলসংখ্যা নিয়ে সমতায় এসে দাঁড়ান, তবে একক চ্যাম্পিয়ন বা বিজয়ী নির্ধারণে ফিফা দুটি নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট ‘টাইব্রেকার’ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।

গোল সমান হলে প্রথম টাইব্রেকারটি হলো ‘অ্যাসিস্ট’ বা গোল করানোর কারিগরি দক্ষতা। সমান গোল করা ফুটবলারদের মধ্যে পুরো টুর্নামেন্টে কার নিখুঁত পাস থেকে সতীর্থরা বেশি গোল করতে পেরেছেন, সেটিই সবার আগে বিবেচনা করা হয়। এই অ্যাসিস্টের চুলচেরা হিসাব রাখার মূল দায়িত্বে থাকে ফিফার বিশেষ ‘টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ’। যার অ্যাসিস্ট সংখ্যা বেশি হবে, নিয়ম অনুযায়ী গোল্ডেন বুটটি সরাসরি চলে যাবে তাঁরই শোকেসে।

ধরা যাক, অ্যাসিস্টের সংখ্যাও যদি শেষ পর্যন্ত একদম সমান হয়ে গেল! তখন বিজয়ী নির্ধারণে জল গড়াবে দ্বিতীয় টাইব্রেকারে। এবার হিসেবে আনা হবে মাঠে খেলার মোট ‘মিনিট’। অর্থাৎ, মাঠে কে কত কম সময় খেলে এই গোল ও অ্যাসিস্টের অনন্য কীর্তি গড়েছেন, তা গণনা করা হবে। যে ফুটবলার সবচেয়ে কম মিনিট মাঠে উপস্থিত থেকে এই গোলসংখ্যায় পৌঁছেছেন, টাইব্রেকারের চূড়ান্ত নিয়মে তিনিই হবেন গোল্ডেন বুটের একক মালিক।

তাহলে বিশ্বকাপের আসরে যৌথভাবে গোল্ডেন বুট দেওয়ার নিয়মটি ঠিক কখন কার্যকর হয়? যখন গোলসংখ্যা, অ্যাসিস্ট এবং মাঠে খেলার মোট মিনিট—এই তিনটি প্রধান মানদণ্ডেই দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স হুবহু এক হয়ে যায় এবং কোনোভাবেই তাঁদের আলাদা করা সম্ভব হয় না, ঠিক তখনই কেবল গোল্ডেন বুট যৌথভাবে দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা।

ফুটবলের এই অনন্য পুরস্কারের ইতিহাস কিন্তু বেশ দীর্ঘ। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে এটি ‘গোল্ডেন শু’ নামে প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল, যা পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালের বিশ্বকাপে নাম পরিবর্তন করে আজকের আধুনিক ‘গোল্ডেন বুট’ রূপ নেয়। অতীতে রোনালদো নাজারিও, মিরোস্লাভ ক্লোসা, থমাস মুলার, হামেস রদ্রিগেজ কিংবা হ্যারি কেইনের মতো কিংবদন্তি ফুটবলাররা এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন।

তবে বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে টাইব্রেকারের সব দেয়াল ভেঙে যৌথভাবে গোল্ডেন বুট দেওয়ার ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেছে মাত্র একবার! সেটি ছিল ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের ঘটনা। সেবার রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো এবং বুলগেরিয়ার রিস্টো স্তয়েচকভ—দুজনই টুর্নামেন্ট শেষ করেছিলেন সমান ৬টি গোল এবং ১টি করে অ্যাসিস্ট নিয়ে। সব সমীকরণ একবিন্দুতে মিলে যাওয়ায় সেবার ফুটবল বিশ্ব এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছিল, যেখানে দুজনেই যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের গৌরব ভাগ করে নিয়েছিলেন।