১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:৫০:০৩ অপরাহ্ন


বিশ্বকাপে অংশ না নিয়েও ফিফা থেকে কত টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ?
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-১৯ ১৬:০৭:১৭
বিশ্বকাপে অংশ না নিয়েও ফিফা থেকে কত টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ?


ফিফা কোনো বাণিজ্যিক মুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি অলাভজনক ক্রীড়া সংস্থা। ফিফার মূল আদর্শই হলো, বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন থেকে টেলিভিশন স্বত্ব, স্পনসরশিপ ও টিকিট বিক্রির মাধ্যমে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় হয়, তা কেবল অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের সমতা ও কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা। এই আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ ফিফা তাদের অন্তর্ভুক্ত ২১১টি সদস্য দেশের মাঝে বণ্টন করে থাকে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ফিফার একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ সদস্য হওয়ায় নিয়মতান্ত্রিকভাবেই এই বৈশ্বিক ফুটবল তহবিলের অংশীদার হওয়ার সম্পূর্ণ বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক অধিকার রাখে।

এই অর্থ মূলত প্রদান করা হয় ফিফার বিশেষ ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট 'ফিফা ফরোয়ার্ড' (FIFA Forward, বর্তমানে সংস্করণ ৩.০)-এর অধীনে। ফিফার অফিশিয়াল ফিন্যান্সিয়াল গাইডলাইন ও অ্যানুয়াল রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ চক্রের মধ্যে প্রতিটি সদস্য দেশের জন্য মোট ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৫ কোটি টাকার বেশি) পর্যন্ত ডেভেলেপমেন্ট ফান্ড বা উন্নয়ন তহবিল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাফুফেও মাঠের মূল পর্বে না খেললেও বৈশ্বিক ফুটবলের কাঠামোগত অংশীদার হিসেবে এই বিশাল অঙ্কের তহবিলের অংশীদার হচ্ছে।

বরাদ্দকৃত এই ফান্ডের একটি নির্দিষ্ট অংশ বাফুফের দৈনন্দিন ও প্রজেক্টের কাজে ব্যয় করা হবে। যার মধ্যে প্রতি বছর ১.২৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয় ফুটবল বোর্ডের দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্য। এছাড়া বাকি ৩ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয় দীর্ঘমেয়াদী সুনির্দিষ্ট ফুটবল প্রজেক্টের জন্য, যেমন—খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা, যুব একাডেমি তৈরি করা, কিংবা দেশের তৃণমূল ফুটবল ও নারী ফুটবলের সামগ্রিক মানোন্নয়ন।

তবে এই অর্থ পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠোর ও স্বচ্ছ নিয়মের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়ে থাকে। ফিফা নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও প্রকল্প অনুমোদনের পর সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কাছে ধাপে ধাপে এই অর্থ ছাড় করে থাকে। বাফুফেকে প্রথমে তাদের সুনির্দিষ্ট ফুটবল প্রজেক্টের পরিকল্পনা এবং বাজেট ফিফার ডেভেলেপমেন্ট কমিটির কাছে জমা দিতে হয়। পরিচালন ব্যয়ের অর্থও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ভিত্তিতে কিস্তিতে দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতি বছর স্বাধীন আন্তর্জাতিক অডিটরদের মাধ্যমে এই ফান্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট সম্পন্ন করা হয়, যাতে অর্থের কোনো ধরনের অপব্যবহার না হয়।