১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৪:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন


ইয়ামালের প্রেমিকার গলার নেকলেসে ‘গোপন’ সংখ্যার রহস্য কী?
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-১৮ ১৫:৩৩:০০
ইয়ামালের প্রেমিকার গলার নেকলেসে ‘গোপন’ সংখ্যার রহস্য কী? লামিন ইয়ামাল, প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া I ছবি: সংগৃহীত


মাঠের জাদুকরী পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন স্পেনের তরুণ ফুটবল বিস্ময় লামিন ইয়ামাল। তবে শুধু মাঠের খেলাই নয়, মাঠের বাইরেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া। চলমান বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে গ্যালারিতে ইনেসের গলায় একটি বিশেষ কাস্টমাইজড ডায়মন্ড নেকলেস দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করে।

স্প্যানিশ দৈনিক ‘লা ভ্যানগার্ডিয়া’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইনেসের গলার এই নেকলেসটি সাধারণ কোনো অলংকার নয়। এটি মূলত প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়ার জন্য লামিন ইয়ামালের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিশেষ উপহার, যার প্রতিটি অংশে খোদাই করা রয়েছে ইয়ামালের ফুটবল ক্যারিয়ারের নানা গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি। স্প্যানিশ ম্যাগাজিন ‘ওলা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেকলেসটির ডিজাইনার এবং ‘আইটি জুয়েলার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইনিয়াকি তোরেস জানান, এটি সম্পূর্ণ কাস্টম ডিজাইনে তৈরি একটি অনন্য অলংকার। গোলাপি সোনা (রোজ গোল্ড) এবং উচ্চমানের হিরা দিয়ে সম্পূর্ণ হাতে এই নেকলেসটি তৈরি করা হয়েছে, যার দুটি আলাদা অংশ রয়েছে।

জুয়েলারি ডিজাইনারের তথ্যমতে, নেকলেসটির একটি অংশে ইংরেজি অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘LY’, যা মূলত লামিন ইয়ামালের নামের আদ্যক্ষর। অন্য অংশে খোদাই করা রয়েছে ১০, ১৯, ২৭ এবং ৪১—এই চারটি বিশেষ সংখ্যা। এই সংখ্যাগুলো ইয়ামালের ফুটবল ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে পরা জার্সি নম্বরের প্রতীক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নেকলেসটিতে যুক্ত করা হয়েছে ‘৩০৪’ প্রতীকটি, যা বার্সেলোনার রকাফোন্দা এলাকার পোস্টাল কোড ‘০৮৩০৪’-এর শেষ তিন অঙ্ক। এই রকাফোন্দা এলাকাতেই ইয়ামালের শৈশব কেটেছে, যা তাঁর নিজের শিকড়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে নেকলেসটিতে একটি নিখুঁত মুকুট এবং ফুটবল বুটের নকশাও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

অলংকারটির মূল্যের দিক থেকেও এটি বেশ রাজকীয়। ‘লা ভ্যানগার্ডিয়া’ এবং ‘ওলা’ ম্যাগাজিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কাস্টমাইজড ডায়মন্ড নেকলেসটির বাজারমূল্য প্রায় ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার ইউরো। সর্বোচ্চ মূল্য ৩০ হাজার ইউরো হিসেবে বিবেচনা করলে বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক ৪৩ লাখ টাকা। জুয়েলারি विशेषज्ञोंর মতে, এটি একটি ‘ওয়ান-অফ-ওয়ান’ অর্থাৎ একক সংস্করণের অলংকার, যার কোনো বাণিজ্যিক প্রতিলিপি বাজারে নেই। বিশ্বকাপ চলাকালীন ইনেস গার্সিয়া প্রথমবারের মতো এই নেকলেসটি পরে প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এটি ভক্তদের মাঝে আলোচনার ঝড় তুলেছে। অনেকে এটিকে কেবল প্রেমিকের ভালোবাসার উপহার হিসেবেই দেখছেন না, বরং ইয়ামালের জীবনের কঠিন সংগ্রাম ও সফলতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করছেন।