১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:২৭:০৫ অপরাহ্ন


খেলা দেখার উচ্ছ্বাসেও মানবিকতার অনন্য নজির: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রশংসনীয় উদ্যোগ!
অনলাইন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-১৪ ১৮:১১:২১
খেলা দেখার উচ্ছ্বাসেও মানবিকতার অনন্য নজির: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রশংসনীয় উদ্যোগ! ছবি: সংগৃহীত


২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ও আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রিয় দলের সমর্থনে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর বন্ধুদের সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করার মধ্য দিয়ে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। তবে দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির এই ক্রান্তিকালে ক্যাম্পাসে খেলা দেখার এমন আনন্দঘন আয়োজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে নানা প্রশ্ন ও নেতিবাচক মন্তব্য তুলেছেন। তবে চবি শিক্ষার্থীদের বর্তমান উদ্যোগ এই উদাসীনতার ঢালাও অভিযোগের বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অনন্য এক মানবিক গল্পের জন্ম দিয়েছে।

খেলার এই স্বাভাবিক আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি দেশের বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের মানবিক সহায়তায় অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে এগিয়ে এসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ। বড় পর্দায় খেলা দেখতে আসা ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই বন্যার্তদের জন্য জরুরি ফান্ড বা তহবিল সংগ্রহের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন এই তরুণরা। মুষলধারে বৃষ্টিতে ভিজেও একদল স্বেচ্ছাসেবী তরুণ শিক্ষার্থী প্রতিটি ম্যাচের সময় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অর্থ সংগ্রহ করছেন। এই মানবিক কার্যক্রম শুধু শহীদ মিনার প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক হলগুলো থেকেও বিপুল পরিমাণ সহায়তা ও অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগভিত্তিক নিজস্ব তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষার্থীরাও এই মহৎ উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হয়েছেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তাঙ্গনে বড় কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের একত্র হওয়া এবং খেলা উপভোগ করা ক্যাম্পাস-জীবনের একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সুন্দর অংশ। বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আয়োজন ঘিরে শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলা শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং বিশ্বের যেকোনো নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়-সংস্কৃতিরই একটি সুপরিচিত চিত্র। তবে সেই জমায়েত বা বড় জমাহুতকে নিছক বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাকে মানবিক ও সামাজিক কাজে রূপান্তর করাই চবি শিক্ষার্থীদের এবারের উদ্যোগের সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক। এই প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা স্মরণ করছেন তাঁদের অতীত ইতিহাসকে। উল্লেখ্য, বিগত ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ পলাশ। দুর্যোগের সময়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত আত্মত্যাগ ও মৃত্যু আজও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে চবি শিক্ষার্থীদের গভীর আগ্রহ ও অংশগ্রহণের পেছনে ফাহিম পলাশের এই অনন্য আত্মত্যাগ একটি বড় আবেগঘন উদাহরণ হয়ে কাজ করছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ স্পষ্টভাবেই প্রমাণ করে যে, সুস্থ বিনোদন এবং সামাজিক বা মানবিক দায়িত্ব কখনোই একে অপরের বিপরীতমুখী নয়। খেলা দেখা যেমন চবি ক্যাম্পাস-জীবনের একটি আনন্দঘন স্বাভাবিক অংশ, ঠিক তেমনি দেশের যেকোনো জাতীয় সংকটে ও দুর্যোগের সময়ে দুর্গত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোও শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও নাগরিক দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ।