১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৫:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন


ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি দুই ইউরোপীয় জায়ান্ট ফ্রান্স ও স্পেন! কার পাল্লা ভারী?
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-১৩ ১৯:৩৫:০৪
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি দুই ইউরোপীয় জায়ান্ট ফ্রান্স ও স্পেন! কার পাল্লা ভারী?


ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মহাকাব্যিক আসর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণের আর মাত্র দুটি ধাপ বাকি রয়েছে। উত্তর আমেরিকার ফুটবল মাঠগুলোতে চলতে থাকা এই বিশ্বযজ্ঞের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি—ফ্রান্স এবং স্পেন। এই ম্যাচটি কেবল ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বরং ফুটবল দর্শনের এক ধ্রুপদী দ্বন্দ্ব। একদিকে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমের দলের গতি, শারীরিক শক্তি ও নিখুঁত কাউন্টার অ্যাটাক; অন্যদিকে স্পেনের ঐতিহ্যবাহী টিকিটাকা ঘরানার আধুনিক পুনর্জাগরণ এবং তরুণ প্রতিভাদের ছন্দময় ফুটবল। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের এই মহারণের দিকে।

দিদিয়ের দেশমের অধীনে ফ্রান্স টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। ২০১৮ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালের রানার্স-আপরা এবারও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও দলীয় ভারসাম্যে অনন্য। তবে এবারের আসরে ফরাসিদের বড় পরিবর্তন হলো দলের দীর্ঘদিনের কাণ্ডারি আঁতোয়ান গ্রিজম্যানের অনুপস্থিতি, যিনি ২০২৪ সালেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন। গ্রিজম্যান না থাকলেও ফরাসিদের আক্রমণের মূল অস্ত্র অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, যিনি ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টে ৮টি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে আছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারানোর ম্যাচে এমবাপে এবং উসমান দেম্বেলের গোল ফরাসিদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মাঝমাঠে মানু কোনে এবং আদ্রিয়েন রাবিওতের নিয়ন্ত্রণ এবং মাইকেল ওলিসে ও দেজিরে দুয়ের মতো তরুণদের ক্ষিপ্রতা ফ্রান্সকে অদম্য শক্তিতে পরিণত করেছে। এর পাশাপাশি জুলস কুন্দে, উইলিয়াম সালিবা এবং দায়ো উপামেকানোর রক্ষণভাগ ভেদ করা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই অত্যন্ত কঠিন কাজ।

অন্যদিকে, স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন তাদের ঐতিহ্যবাহী টিকিটাকা ফুটবলের সঙ্গে আধুনিক গতির এক চমৎকার মিশ্রণ ঘটিয়েছে। অভিজ্ঞ রদ্রি বা দানি কারভাহালদের চোট বা অনুপস্থিতি সত্ত্বেও স্পেনের এই নতুন প্রজন্ম টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত খেলেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে আসা স্প্যানিশ দলটির মূল শক্তি তাদের বল পজিশন বা নিয়ন্ত্রণ। মাঝমাঠে মিকেল মেরিনো, মার্তিন সুবিমেন্দি এবং পেদ্রির মেলবন্ধন প্রতিপক্ষকে সহজেই ক্লান্ত করে ফেলে। আক্রমণের ক্ষেত্রে দুই উইঙ্গে লামিনে ইয়ামাল এবং নিকো উইলিয়ামসের ভয়ডরহীন ছন্দময় ফুটবল বর্তমান বিশ্বের যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য এক মহা আতঙ্ক। বিশেষ করে তরুণ প্রতিভাবান ইয়ামালের পাসিং ও ড্রিবলিং স্পেনের আক্রমণভাগকে অবিশ্বাস্য ধারালো করে তুলেছে।

বাজির বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সেমিফাইনালে লড়াইটি অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা (২.৪৫ - ২.৬০), ড্র হওয়ার সম্ভাবনা (৩.২০ - ৩.৪০) এবং স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা (২.৭০ - ২.৮৫) হিসেবে ধরা হচ্ছে। অভিজ্ঞতার কারণে ফ্রান্সকে সামান্য এগিয়ে রাখা হলেও স্পেনের সাম্প্রতিক ফর্মের কারণে বাজিকরদের একটি বড় অংশ ড্র এবং টাইব্রেকার কিংবা অতিরিক্ত সময়ের কথা মাথায় রাখছেন। অনেক ফুটবল বোদ্ধার মতে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে ড্র হতে পারে এবং ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে গড়ানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্রীড়া বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচটি মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি কৌশলগত এক দাবা খেলার মতো হতে যাচ্ছে। ফ্রান্সের মূল পরিকল্পনা থাকবে রক্ষণভাগ নিরেট রেখে এমবাপে বা দেম্বেলের গতিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়া। অন্যদিকে স্পেনের চ্যালেঞ্জ হবে ফ্রান্সের নিখুঁত পাসিং ফুটবলকে ভেঙে দেওয়া। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক এবং বিশেষজ্ঞ অ্যালান শিয়েরার মন্তব্য করেছেন, "ফ্রান্স যদি শুরুতেই গোল পেয়ে যায়, তবে তাদের আটকানো খুব কঠিন। কিন্তু যদি স্পেন প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তবে ফ্রান্সের জন্য ম্যাচে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব হবে।"

সম্ভাবনা একাদশ:

ফ্রান্স (৪-২-৩-১): মাইক মাইনান (গোলরক্ষক), জুলস কুন্দে, দায়ো উপামেকানো, উইলিয়াম সালিবা, লুকাস দিনিয়ে, মানু কোনে, আদ্রিয়েন রাবিওত, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, দেজিরে দুয়ে, কিলিয়ান এমবাপে।

স্পেন (৪-৩-৩): উনাই সিমোন (গোলরক্ষক), পেদ্রো পোরো, rবিন ল্য নরমঁদ, ডেন হুইজসেন, মার্ক কুকুরেল্লা, মিকেল মেরিনো, মার্তিন সুবিমেন্দি, পেদ্রি, লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবাল, নিকো উইলিয়ামস।