১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:২২:৪৯ পূর্বাহ্ন


বাবার হত্যার ‘প্রতিশোধ’ অবশ্যই নেওয়া হবে: মোজতবা খামেনি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-১১ ২০:২৬:৪৬
বাবার হত্যার ‘প্রতিশোধ’ অবশ্যই নেওয়া হবে: মোজতবা খামেনি নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে এবং দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর বাবার হত্যাকাণ্ডের ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফারস–এ প্রকাশিত মোজতবার এক বিশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিশোধ নেওয়া আমাদের জাতির দাবি এবং এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।’ প্রয়াত নেতাকে উদ্দেশ্য করে ওই বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শপথ করছি, ওই অপরাধী ও কলঙ্কিত খুনিদের কাছ থেকে আমরা আপনার পবিত্র রক্ত এবং এই দুই যুদ্ধের সব শহীদের রক্তের বদলা নেব।’

বিবৃতিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত এই অপরাধীদের সবার নাম জানা এবং নথিভুক্ত আছে। বৃদ্ধ বয়সে বিছানায় শুয়ে শান্তিতে মৃত্যুর যে ইচ্ছা তারা বুকে পুষে রাখছে, তা তাদের সঙ্গেই কবরে যাবে। তাদের এটা জানা উচিত, এই বিষয়টি আমার বা অন্য কোনো কর্মকর্তার বেঁচে থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভর করে না।’ তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, তাঁরা বেঁচে থাকুন বা না থাকুন, অত্যন্ত দ্রুত বা ‘শিগগিরই’ এই প্রতিজ্ঞা পূরণ করা হবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘ধুলায় মিশিয়ে’ দেওয়ার যে হুমকি দিয়েছিলেন, তার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই পাল্টা হুঁশিয়ারি এল। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে, তবে তিনি দেশটিকে ধ্বংস করে দেবেন।

সম্প্রতি ইসরায়েলি গোয়েন্দারা দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে হত্যার একটি সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, তেহরানের কট্টরপন্থী নেতাদের কোনো একটি অংশ ট্রাম্পকে হত্যার এই ইচ্ছা পোষণ করে আসছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দাদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে ট্রাম্পকে হত্যার নতুন বা নির্দিষ্ট কোনো ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যদিও বিভিন্ন ইরানি পক্ষের এমন ইচ্ছা নিয়ে বেশ কিছু গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে এখনো পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনে যখন মোজতবার বাবা, মা, সন্তান ও স্ত্রী নিহত হন, তখন সেই হামলায় তিনিও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই নতুন এই সর্বোচ্চ নেতা প্রকাশ্যে আসছেন না এবং কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, যেখানে কখনো তাঁর মুখ বা কণ্ঠ প্রকাশ পায়নি। শনিবারের এই বিশেষ বার্তাটি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তাঁর প্রকাশিত অল্প কয়েকটি বার্তার একটি।