১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪৫:১৪ অপরাহ্ন


ভারতের অরুণাচলে চীনা সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশের অভিযোগ আদিবাসী সংগঠনের; দাবি অস্বীকার ভারতীয় সেনার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৬-৩০ ১৯:৪৪:১৫
ভারতের অরুণাচলে চীনা সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশের অভিযোগ আদিবাসী সংগঠনের; দাবি অস্বীকার ভারতীয় সেনার


ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার অভ্যন্তরে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) অনুপ্রবেশ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের একটি স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন। তাদের দাবি, সীমান্ত এলাকা অতিক্রম করে ভারতীয় ভূমিতে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি ও ক্যাম্প তৈরি করার পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসীদের চারণভূমি ও কৃষিজমিসহ বিস্তূর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীনা বাহিনী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ‘নাহ’ আদিবাসীদের একটি সংগঠন দাবি করেছে যে, ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ঢুকে চীনা বাহিনী ইতিমধ্যে পাকাপোক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। তাদের এই দখলদারির ফলে গত ছয় বছর ধরে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চাষাবাদ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ এবং গবাদি পশুর চারণ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এই বিষয়ে ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সভাপতি কেরু চাদের আপার সুবানসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। কেরু চাদের জানান, ওই ভূমি তাঁদের পূর্বপুরুষদের, যেখানে বহু যুগ ধরে স্থানীয় মানুষেরা শিকার, পশুচারণ এবং চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু কয়েক বছর আগেও যেসব জমিতে তাঁরা অবাধে যাতায়াত করতেন, সেগুলো এখন চীনা সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

স্মারকলিপিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) লাগোয়া আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে চীনা সামরিক বাহিনী স্থায়ী পরিকাঠামো ও সড়ক নির্মাণ করেছে। আসফিলা এলাকার উইং এবং পনিয়ার (চুজার্তা এলাকা), মারপান, পোত্রাং ও টিনডিংতাংয়ে চীনের এই দখলদারির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে কয়েকটি স্থানকে স্থানীয়রা পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবেও বিবেচনা করেন। কেরু চাদের আরও জানান, প্রায় ১২ বছর আগে থেকেই মাঝেমধ্যে ওই এলাকাগুলোতে চীনের সেনাবাহিনী ঢুকে পড়ত। কিন্তু ২০২০ সালে তারা কৌশলগতভাবে পাকাপাকিভাবে ওই ভূখণ্ডগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের সেখানে যেতে বাধা দিচ্ছে। তাকসিং এলাকায় চীনা সামরিক বাহিনীর এই তৎপরতার গতি ও উদ্দেশ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং প্রতিদিন তারা নিজেদের ভূমি হারাচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

এই বিষয়ে স্থানীয় নাচো এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো বলেন, বিষয়টি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই আদিবাসী সংগঠনের তোলা এই গুরুতর অভিযোগগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। অবশ্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই অনুপ্রবেশের দাবি সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে চীনের সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশ এবং ঘাঁটি স্থাপনের অভিযোগ করে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন বা অরুণাচল প্রদেশ সরকার এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। প্রসঙ্গত, বছর কয়েক আগে লাদাখেও একইভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে স্থানীয় পশুপালকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল চীনের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে, যদিও সে সময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছিল যে লাদাখে ভারতের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও চীন দখল করতে পারেনি।