১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:২০:৩০ অপরাহ্ন


প্রধান শিক্ষকের অনন্য ত্যাগের অনন্য স্বীকৃতি!
সংসদ প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | কুবলাই
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৬-২৯ ১৮:৫৯:৩৫
প্রধান শিক্ষকের অনন্য ত্যাগের অনন্য স্বীকৃতি! তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত


বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম তিন্দু এলাকার ‘তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’টি জাতীয়করণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ নির্দেশনার কথা সংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের এই স্কুলটিকে সরকারি করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং সংসদ অধিবেশন চলাকালীন একটি লিখিত নির্দেশ বা স্লিপ পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের অনন্য ও জাদুকরী সংগ্রামের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। তিনি জানতে পারেন যে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার এই বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও সহকর্মীদের বেতন সচল রাখতে প্রধান শিক্ষক নিজে কঠোর পরিশ্রম করে নৌকা চালাচ্ছেন। শুধু গত মার্চ ও এপ্রিল মাসেই তিনি পর্যটকবাহী নৌকা চালিয়ে ৪০ হাজার টাকা আয় করেন, যার মধ্যে ৩০ হাজার টাকাই তিনি নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় না করে সহকর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধে খরচ করেছেন। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখার এই অসাধারণ ত্যাগ ও মানবিক দৃষ্টান্ত জানার পরপরই প্রধানমন্ত্রী স্বউদ্যোগে শিক্ষামন্ত্রীকে বিদ্যালয়টি সরকারি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তবে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় তারা নিয়মিত স্কুলের বেতন বা অন্যান্য প্রাত্যহিক ফি পরিশোধ করতে পারে না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন দেওয়া এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম টিকিয়ে রাখা চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এই তীব্র আর্থিক সংকট মোকাবিলায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন দমে না গিয়ে সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটির দিনগুলোতে থানচি-তিন্দু-রেমাক্রী নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী পরিবহন শুরু করেন। সেই কষ্টার্জিত আয়ের সিংহভাগ শিক্ষকদের বেতনের পেছনে ব্যয় করার এই মানবিক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়, যা শেষ পর্যন্ত সরকারপ্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।