১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:০৬:৪৮ অপরাহ্ন


সুখী হওয়ার গোপন চাবিকাঠি কী? ৮০ বছরের হার্ভার্ড গবেষণায় মিলল উত্তর
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | কুবলাই
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০১ ১৪:৩১:১৮
সুখী হওয়ার গোপন চাবিকাঠি কী? ৮০ বছরের হার্ভার্ড গবেষণায় মিলল উত্তর


মানুষ কীভাবে সুখী হয়? এটি এমন এক প্রশ্ন যা যুগের পর যুগ ধরে দার্শনিক ও বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। আমরা অনেকেই মনে করি অর্থ, খ্যাতি বা বড় কোনো অর্জনই সুখের মূল ভিত্তি। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে গভীরতম গবেষণা বলছে অন্য কথা। ১৯৩৮ সালে শুরু হওয়া ‘হার্ভার্ড স্টাডি অব অ্যাডাল্ট ডেভেলপমেন্ট’ গত ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ৭২৪ জন পুরুষ এবং পরবর্তীতে তাদের পরিবার ও সন্তানদের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করে সুখী হওয়ার এক অমোঘ সত্য উন্মোচন করেছে।

সম্পর্কই হলো সুখের মূল মন্ত্র হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণার চতুর্থ পরিচালক অধ্যাপক রবার্ট ওয়ালডিঙ্গার এবং ডঃ মার্ক শুলজ তাদের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে দেখেছেন, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া বা অঢেল সম্পদের চেয়েও মানুষের সুখের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো— সুসম্পর্ক। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যারা পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং সামাজিক মহলের সাথে গভীর ও উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রাখেন, তারা শুধু মানসিকভাবেই সুখী হন না, বরং তারা দীর্ঘায়ু লাভ করেন। অন্যদিকে, যারা একাকীত্বে ভোগেন বা বিষাক্ত সম্পর্কের মধ্যে থাকেন, তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায় এবং তারা অকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

টাকা কি সুখ আনতে পারে না? গবেষণাটি বলছে না যে অর্থহীন জীবন খুব সুখের। আর্থিক নিরাপত্তা অবশ্যই মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের পর মানুষের ব্যক্তিগত সুখের ক্ষেত্রে অর্থের প্রভাব আর বাড়ে না। গবেষণায় দেখা গেছে, সমাজের উচ্চবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত উভয় শ্রেণির মানুষের মধ্যেই সুখী হওয়ার হার সমান হতে পারে, যদি তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো মজবুত থাকে। গবেষণার সারমর্ম হলো— ‘একাকীত্ব আপনাকে মেরে ফেলতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা আপনাকে বাঁচিয়ে রাখে।’

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার যোগসূত্র হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, ৫০ বছর বয়সে যাদের সামাজিক সম্পর্কগুলো সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক ছিল, ৮০ বছর বয়সে গিয়ে তারাই শারীরিক ও মানসিকভাবে সবচেয়ে সুস্থ ছিলেন। ভালো সম্পর্ক কেবল আমাদের মনকে প্রফুল্ল রাখে না, এটি আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে এবং শারীরিক ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ, একটি সুখী বৈবাহিক জীবন বা বিশ্বস্ত বন্ধুর সঙ্গ বার্ধক্যেও মানুষকে টগবগে রাখতে সাহায্য করে।

বর্তমান প্রজন্মের জন্য শিক্ষা আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে যেখানে আমরা ক্যারিয়ার এবং সামাজিক মর্যাদার পেছনে ছুটছি, সেখানে হার্ভার্ডের এই গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দিনের শেষে আমরা কতটা মানুষের সাথে সংযুক্ত থাকতে পেরেছি, সেটাই বড় কথা। সুখ কোনো গন্তব্য নয়, বরং এটি একটি পথ—যা গড়ে ওঠে একে অপরের প্রতি সহানুভূতি, ক্ষমা এবং ভালোবাসার মাধ্যমে। তাই সুখী হতে চাইলে আজ থেকেই প্রিয়জনদের সময় দেওয়া শুরু করুন।