১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:৪৪:৩৭ পূর্বাহ্ন


নেতানিয়াহু রাজনীতি থেকে বিদায় নিন, চান ৫৯ শতাংশ ইসরায়েলি !
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৬-২০ ২০:০০:৫১
নেতানিয়াহু রাজনীতি থেকে বিদায় নিন, চান ৫৯ শতাংশ ইসরায়েলি ! ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুফাইল I ছবি: রয়টার্স


যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আকস্মিক সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ও দেশটির বর্তমান সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সিংহভাগ মানুষেরই চাওয়া—নেতানিয়াহু এবার রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় নিন। ইসরায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল-১২’ পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে নাগরিকদের এই মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৯ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করছেন, নেতানিয়াহুর অবিলম্বে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং আগামী শরতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসরায়েলের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে তাঁর আর কোনোভাবেই অংশ নেওয়া উচিত হবে না। অপরদিকে, লিকুদ পার্টির এই নেতার আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩৩ শতাংশ নাগরিক এবং বাকি ৮ শতাংশ মানুষ এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট মতামত দেননি।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারপ্রধান। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সেই পদে বহাল থাকেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে আবার ইসরায়েলের সরকারপ্রধান হয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা দায়িত্ব পালন করেন। সামান্য রাজনৈতিক বিরতির পর ২০২২ সালে তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং সেই থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশটির শীর্ষ পদে আসীন রয়েছেন। তবে ফিলিস্তিনের গাজা, লেবানন ও ইরানে নির্বিচার ও নৃশংস সামরিক হামলার জেরে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশ-বিদেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। গাজায় সংঘটিত বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এই শীর্ষ রাজনীতিকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে ৬০ দিনের সময়সীমা মাথায় রেখে সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় বসছে দুই পক্ষ। এই সমঝোতার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা। ইসরায়েল শুরুতে এই শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানালেও অবশেষে গতকাল শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরেও লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংসতা থামেনি; গতকাল এক দিনেই সেখানে অন্তত ৪৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং আজ শনিবার নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১২ জন নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকেরা আগে থেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন যে, ইসরায়েল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই শান্তি সমঝোতা নস্যাৎ করার চেষ্টা করবে, কারণ নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলের উগ্র ইহুদিবাদী নেতারা লেবাননে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।