আর মাত্র কয়েক দিন পরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। রেকর্ডসংখ্যক ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বযজ্ঞকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’। বিশ্ববিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের তৈরি অত্যাধুনিক এই বলটিকে সচল রাখতে হলে নিয়মিত চার্জ দিতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির অসাধারণ মিশ্রণের পাশাপাশি এই বলটির মূল নকশায় তিন স্বাগতিক দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অনন্য পরিচয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। স্পেনীয় ভাষায় ‘ট্রাইওন্ডা’ শব্দের অর্থ হলো ‘তিন ঢেউ’। বিশ্বকাপের তিন স্বাগতিক দেশের প্রতীকী উপস্থাপন হিসেবেই বলটির এমন নামকরণ করা হয়েছে। বলের নকশায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতীক হিসেবে নীল রং ও তারকা, কানাডার জন্য লাল রং ও ম্যাপলপাতা এবং মেক্সিকোর পরিচয় হিসেবে সবুজ রং ও ইগল পাখি যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বলের পুরো নকশায় ব্যবহৃত সোনালি রং মূলত মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ট্রাইওন্ডা বলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সংযোজন হলো এর ভেতরে থাকা ৫০০ হার্টজ গতির অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি সেন্সর চিপ। অ্যাডিডাসের তৈরি এই বিশেষ সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। এর ফলে ম্যাচে বলে ঠিক কোথায় স্পর্শ করা হয়েছে, বলটি ঠিক কত গতিতে ছুটছে, বাতাসে কী পরিমাণ ঘূর্ণন তৈরি হচ্ছে এবং বলটি কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে— এই সমস্ত নিখুঁত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হবে। মাত্র ১৪ গ্রাম ওজনের এই সেন্সরটি বলের বাইরের দিকের একটি বিশেষ প্যানেলের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। ফিফা ও অ্যাডিডাসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই সেন্সরের কারণে বলের ওজন, ভারসাম্য, বাউন্স কিংবা মাঠে ফুটবলারদের খেলার স্বাভাবিক অভিজ্ঞতায় কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। তবে এই উচ্চপ্রযুক্তির সেন্সরটি সচল রাখতে প্রতিটি ম্যাচের আগেই বলটিকে চার্জ দিতে হবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, একবার পূর্ণ চার্জ দিলে এই ব্যাটারিটি প্রায় ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ কার্যকর থাকে, যা ম্যাচের আগের অনুশীলন থেকে শুরু করে পুরো ম্যাচ জুড়েই প্রযুক্তিটি ব্যবহারের সুবিধা দেবে।
স্টেডিয়ামের ভেন্যুগুলোতে স্থাপিত উচ্চগতির অত্যাধুনিক ক্যামেরা ব্যবস্থার সঙ্গে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সমন্বয় করে কাজ করবে এই ট্রাইওন্ডা বলের সেন্সর প্রযুক্তি। এর ফলে মাঠের বল ও খেলোয়াড়দের গতিবিধির সার্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ম্যাচের একটি ত্রিমাত্রিক চিত্র তৈরি করা সম্ভব হবে। জানা গেছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০ বার করে বল এবং ফুটবলারদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা যাবে। এর ফলে মাঠে অফসাইড কিংবা বলের স্পর্শসংক্রান্ত যেকোনো ধরনের বিতর্কিত মুহূর্তগুলো আরও দ্রুত এবং শতভাগ নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে, যা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর-কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাড়তি ও কার্যকর সহায়তা প্রদান করবে।