১৩ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ১১:২৯:২৮ অপরাহ্ন


ঈদুল আজহায় যে সুন্নাহগুলো ভুলে যাচ্ছেন অনেকে: জেনে নিন মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা
ধর্মীয় প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৫-২৭ ১৫:৫৭:২০
ঈদুল আজহায় যে সুন্নাহগুলো ভুলে যাচ্ছেন অনেকে: জেনে নিন মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা


পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মুসলিম সমাজে এখন চলছে জোর ধর্মীয় প্রস্তুতি। ঈদ কেবল মাত্র আনন্দের একটি উৎসব নয়, বরং এটি আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও মহান আল্লাহর প্রতি পরম আনুগত্যের এক মহিমান্বিত শিক্ষা। ইসলামি শরিয়তে ঈদুল আজহার দিন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আমলের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, যা স্বয়ং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) নিয়মিত পালন করতেন। ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমদের মতে, এই সুন্নতগুলো যথাযথভাবে মেনে চললে ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব।

ইসলামি সূত্র অনুযায়ী, ঈদের দিন ভোরে দ্রুত ঘুম থেকে উঠে গোসল করা, সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং নিজের সংগ্রহে থাকা পরিষ্কার বা উত্তম পোশাক পরিধান করা অন্যতম সুন্নত। হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ঈদের দিনগুলোতে বিশেষভাবে পরিচ্ছন্নতা ও নিজের সৌন্দর্য বজায় রাখতেন। ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো ঈদের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার আগে কোনো কিছু আহার না করা। কোরবানি সম্পন্ন করার পর সেই কোরবানির গোশত খাওয়ার মাধ্যমে দিনের প্রথম আহার গ্রহণ করাকে ইসলামে সবচেয়ে উত্তম বলা হয়েছে। হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে যে, মহানবী (ﷺ) নিজে কোরবানি করার পূর্বে কোনো কিছু খেতেন না।

এর পাশাপাশি ঈদগাহে যাওয়ার পথে উচ্চকণ্ঠে তাকবির পাঠ করাও সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। মুসল্লিরা ঈদগাহে যাওয়ার সময় উচ্চারণ করেন— “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ”। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-কাউসারের ২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কোরবানি কর”। ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বর্গীয় আদেশের মাধ্যমে নামাজ ও কোরবানির সমন্বয়ে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরবানির বিশেষ গুরুত্ব সম্পর্কে জামে তিরমিজির ১৪৯৩ নম্বর হাদিসে বর্ণিত মহানবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর বাণী অনুযায়ী, আদম সন্তানের মধ্যে কোরবানির দিনের কোনো আমলই আল্লাহর কাছে পশুর রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে অধিক প্রিয় নয়। এছাড়া হানাফি মাজহাবের বিধান অনুযায়ী, সামর্থ্যবান পুরুষদের জন্য ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব এবং একে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়।

ধর্মীয় বিশ্লেষকেরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, ঈদুল আজহার প্রকৃত শিক্ষা কেবল মাত্র পশু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিজের ভেতরের অহংকার, লোভ, স্বার্থপরতা ও আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতাকে বিসর্জন দেওয়ার মধ্যেই এর আসল তাৎপর্য নিহিত। কোরবানির গোশত আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীর পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক রাস্তা ব্যবহার করতেন এবং নামাজ শেষে ফেরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরতেন। একই সাথে ঈদের দিনে মুসলমানদের পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্রতিও ইসলামে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিনে একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ হলে বলতেন— “তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম”, যার অর্থ হলো “আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের ভালো আমলগুলো কবুল করুন”। আলেমদের মতে, এই সুন্নাহগুলো অনুসরণ করে ঈদ উদযাপন করলে তা কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উৎসবে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং মানুষের ব্যক্তিগত ও সমাজজীবনে আধ্যাত্মিক শুদ্ধতা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।