১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:২২:৫৪ অপরাহ্ন


প্রতিবেশীর ছাগল জবাই করে খেলেন মাদরাসা শিক্ষকরা: সালিসে জরিমানা ও তোলপাড়
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৫-০৭ ১৬:১৯:৪৬
প্রতিবেশীর ছাগল জবাই করে খেলেন মাদরাসা শিক্ষকরা: সালিসে জরিমানা ও তোলপাড় ছাগল জবাই করে ফ্রিজে রেখে দেওয়া হয় মাংস। ছবি: সংগৃহীত


গাজীপুরের উত্তর সালনা গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। কোরবানির জন্য লালন-পালন করা এক নারীর পালিত ছাগল গোপনে জবাই করে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি কওমি মাদরাসার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে সালিসের মাধ্যমে জরিমানা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:

ঘটনার সূত্রপাত ও শিক্ষকদের ক্ষোভ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ডের উত্তর সালনা গ্রামের জামিয়া মাদিনাতুল কুরআন মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শখ করে কয়েকটি ছাগল লালন-পালন করতেন। ছাগলগুলো মাঝে-মধ্যে মাদরাসা প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ায় শিক্ষকরা দীর্ঘ দিন ধরেই ক্ষিপ্ত ছিলেন। গত বুধবার ছাগলটি মাদরাসায় প্রবেশ করলে শিক্ষকরা সেটি ধরে গোপনে জবাই করেন এবং প্রমাণ নষ্ট করতে মাংস ফ্রিজে লুকিয়ে রাখেন।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ

ভুক্তভোগী ওই নারীর দাবি, ছাগলটি তিনি আগামী কোরবানির ঈদের জন্য অনেক যত্ন করে বড় করছিলেন। মাদরাসার শিক্ষকরা কোনো অনুমতি ছাড়াই তাঁর শখের ছাগলটি ধরে জবাই করেছেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে সালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করছে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অদ্ভুত যুক্তি

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি কিছুটা ভিন্ন। মাদরাসা পরিচালকের ছেলে মাহমুদুল হাসানের দাবি, ছাগলটি মাদরাসার গাছের চারা খেয়ে নষ্ট করছিল। বারবার মালিককে সতর্ক করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার দিন ছাগলটি মাদরাসায় আটক করার পর সেটি নাকি 'হঠাৎ অসুস্থ' হয়ে পড়ে, যার ফলে তাঁরা সেটি জবাই করতে বাধ্য হন।


গ্রাম্য সালিসে জরিমানা ও সমাধান

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হলে স্থানীয় মুরুব্বিরা সালিস ডাকেন। সালিস বৈঠকে ছাগলের একটি নির্দিষ্ট বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সেই অর্থ ছাগলের মালিককে বুঝিয়ে দিতে সম্মত হয়েছে। তবে একজন শিক্ষকের এমন আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

কওমি মাদরাসার মতো ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের এই ধরনের কাজ—গোপনে প্রতিবেশী প্রাণীকে জবাই করা এবং মাংস লুকিয়ে রাখা—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও স্থানীয় পর্যায়ে নৈতিকতার চরম অবক্ষয় হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। 'অসুস্থ হওয়ার' দোহাই দিয়ে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার চেষ্টা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।