১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:০৫:৪৩ অপরাহ্ন


দুদিনে ৯৪ চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার, তদবিরে ছাড়া হবে না কাউকে: ডিএমপি কমিশনার
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৫-০৩ ১৪:৪৪:০০
দুদিনে ৯৪ চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার, তদবিরে ছাড়া হবে না কাউকে: ডিএমপি কমিশনার ছবি: সংগৃহীত


ঢাকা মহানগর এলাকায় চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার। রোববার (৩ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, গত দুদিনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ৫৮ জনসহ মোট ৯৪ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানে চাঁদাবাজির বিভিন্ন আলামতও জব্দ করেছে পুলিশ।

কমিশনার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত অপরাধীদের জন্য কোনো ধরনের তদবির বরদাশত করা হবে না। যদি কেউ কোনো চাঁদাবাজকে ছাড়ানোর জন্য তদবির করেন, তবে তাকেও ওই অপরাধী চক্রের অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চাঁদাবাজ যে দলের বা যে পরিচয়েরই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে।

বর্তমানে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি জানান, কেবল চাঁদাবাজি নয়, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত আছে। অনেক ছিনতাইকারীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসী মাঠে নেই, তবে মাঝারি সারির বা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যক্তি কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সজাগ রয়েছে।

সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করতে বর্তমানে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে। ডিএমপি কমিশনার জানান, চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে 'ব্লক রেইড' দেওয়া হচ্ছে যাতে অপরাধীরা পালানোর কোনো পথ না পায়। পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে ৮টি বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট নিয়ে মাঠে রয়েছেন এবং ডিএমপির পক্ষ থেকে অনলাইনেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অপরাধপ্রবণ ও জনবহুল এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপের কথাও জানান মো. সরওয়ার। তিনি বলেন, হটস্পট ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অনলাইন প্রতারকদেরও ধরা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে নতুন পুলিশ ক্যাম্প ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুসংহত করতে মোহাম্মদপুরে 'রায়েরবাজার থানা' গঠনের একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সবশেষে তিনি পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর বার্তা দেন। তিনি জানান, পুলিশের কেউ যদি অভিযানের গোপন তথ্য ফাঁস করে দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সিটি করপোরেশন কর্তৃক ফুটপাতে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়ায় এখন আর চাঁদাবাজির তেমন সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।