১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ১২:৩৪:৩২ পূর্বাহ্ন


৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৫-০৩ ১৩:৩২:২২
৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত


বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভয়াবহ দুর্নীতি ও লুটপাটের ধ্বংসাবশেষ থেকে দেশকে টেনে তোলার এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার। গত রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতার এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকারের সীমাহীন অব্যবস্থাপনার ফলে রাষ্ট্র ও জনগণের কাঁধে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার বিশাল ঋণের বোঝা চেপেছে, যা নিয়ে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং একটি অত্যন্ত দুর্বল ও বিভাজিত জনপ্রশাসন পেয়েছে। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নাজুক অবস্থার পাশাপাশি দেশকে একটি চরম আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। এর ফলে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেলেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

অভ্যন্তরীণ এই সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটও বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব থেকে বিশ্বের কোনো দেশই মুক্ত নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক এই অস্থিরতা নতুন সরকারের সামনে বহুমুখী সংকট তৈরি করেছে। তবে জনগণের ভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রেখে কীভাবে এই পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করা যায়, সরকার সেই প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশের এই টালমাটাল অবস্থায় সরকার দমে না গিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরে বৈষম্য দূর করার কাজ শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ড বিতরণের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো চালু করা হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে সরকার ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, দল-মত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিককে রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও একটি মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।