১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:০৩:৫৫ অপরাহ্ন


৯ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো, বাড়ছে চাপ
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-৩০ ১৮:১৪:৪৫
৯ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো, বাড়ছে চাপ ছবি: সংগৃহীত


বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও বিভিন্ন দেশকে ঋণের আসল ও সুদ বাবদ মোট ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত কয়েক বছর ধরে ঋণের কিস্তি পরিশোধের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

ইআরডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে পরিশোধিত অর্থের মধ্যে ঋণের আসল হিসেবে দেওয়া হয়েছে প্রায় ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ১২৫ কোটি ডলার। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো বার্ষিক ঋণ পরিশোধ ৪ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ৪০৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। বর্তমান অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন যে, বছর শেষে এই পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূলত গত এক দশকে গৃহীত বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় বা 'গ্রেস পিরিয়ড' শেষ হয়ে যাওয়ায় এই চাপের সৃষ্টি হয়েছে।

ঋণ ছাড়ের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এই ৯ মাসে মোট ৩৮৯ কোটি ডলার অর্থ দেশে এসেছে, যার মধ্যে ৩৫০ কোটি ডলার ঋণ এবং ৩৯ কোটি ডলার অনুদান। একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে রাশিয়া, যার পরিমাণ প্রায় ৮৩ কোটি ডলার। এরপরের অবস্থানে রয়েছে বিশ্বব্যাংক (৭৬ কোটি ডলার) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি (৬১ কোটি ডলার)। এছাড়া চীন ৫২ কোটি ডলার এবং জাপান ৩১ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমে ২৮০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিদেশি ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে, যা পরিশোধ শেষে বর্তমানে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক ও দেশীয়—উভয় উৎসের ঋণের এই ক্রমবর্ধমান বোঝা দেশের রিজার্ভ এবং বাজেট ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো, সময়মতো প্রকল্প শেষ করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথগুলো আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।