১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:০৯:৩৫ অপরাহ্ন


শিল্পকলায় চলছে লোকশিল্প প্রদর্শনী ‘ধারণ’
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৯ ১৯:২৯:৩৬
শিল্পকলায় চলছে লোকশিল্প প্রদর্শনী ‘ধারণ’


রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে লোকশিল্পভিত্তিক প্রদর্শনী ‘ধারণ’। গত ১৩ তারিখ শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত (শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে) প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

প্রদর্শনীর কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জিন্নাতুন জান্নাত এবং সহ-কিউরেটর আয়শা নাজমিন।

কিউরেটর জিন্নাতুন জান্নাত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লোকজ ও গ্রামীণ শিল্পচর্চাকে আধুনিক শিল্পের তুলনায় নিম্নস্তরের হিসেবে দেখার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, ‘ধারণ’ সেই দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়।

তিনি আরও বলেন, লোকশিল্প নিজস্ব ভাষা ও নান্দনিকতায় একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পধারা, যা সমকালীন শিল্পচর্চার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

আয়োজকদের মতে, এই প্রদর্শনীর লক্ষ্য শিল্পী ও দর্শক, গ্রাম ও শহর এবং অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি অর্থবহ সংলাপ তৈরি করা। লোকশিল্পকে কেবল ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে সমকালীন প্রেক্ষাপটে এর পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে শিল্পমূল্য তুলে ধরা হচ্ছে।

প্রদর্শনীতে নকশিকাঁথা, বাঁশশিল্প, পটচিত্র, মাটির পুতুল ও রিকশাচিত্র—এই পাঁচটি লোকশিল্পধারা স্থান পেয়েছে। এসব শিল্প তাদের নিজস্ব উপকরণ, অভিজ্ঞতা ও বর্ণনাভঙ্গির মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পবৈচিত্র্যকে তুলে ধরছে।

আয়োজকরা জানান, কৃষিজীবী সমাজের শিল্পীরা ঐতিহ্যগতভাবে সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার করলেও সময়ের সঙ্গে আধুনিক উপকরণও যুক্ত হয়েছে। ফলে লোকশিল্প এখন জীবনঘনিষ্ঠ ও পরিবর্তনশীল এক সাংস্কৃতিক মাধ্যম হিসেবে বিকশিত হচ্ছে।

প্রদর্শনীতে শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন কর্মশালা থেকে নির্বাচিত রিকশাচিত্র, বাঁশশিল্প ও নকশিকাঁথার কাজ প্রদর্শিত হচ্ছে। এসব কাজ সমকালীন বাস্তবতার সঙ্গে ঐতিহ্যের সংযোগকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে।

এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৈরি কিছু নকশিকাঁথা ও রিকশাচিত্রে প্রতিবাদের ভাষা ও ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রতিফলন দেখা গেছে। এতে স্মৃতি, পরিচয় ও প্রতিরোধের বিষয়গুলো একসঙ্গে উঠে এসেছে।

প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া মাটির পুতুলগুলো বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক বৈচিত্র্য ও লোকজ নান্দনিকতার ভিন্নতা তুলে ধরছে।

আয়োজকদের ভাষায়, ‘ধারণ’ কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপলব্ধি, সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের একটি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ।