জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সাম্প্রতিক লিফলেটের তীব্র সমালোচনা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই লিফলেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও জুলাই সনদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমঝোতার কোনো উল্লেখ নেই। জামায়াতের এই অবস্থানকে তিনি ‘আধা প্রেম, আধা প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন।
সংসদে আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল সংস্কারের দাবিতে যে লিফলেট প্রচার করছে, তাতে কোথাও ৩৩টি রাজনৈতিক দল কর্তৃক স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর নামগন্ধ নেই। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ থেকে গণভোটের ধারণাটিকে বিচ্যুত করা হয়েছে। এটি সংবিধান এবং আইনের সাথে এক ধরনের প্রতারণা (ফ্রড অন দ্য কনস্টিটিউশন)।”
গণভোটের প্রশ্নের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেখানে উত্থাপিত চারটি প্রশ্নের মধ্যে সাড়ে তিনটি বিষয়ে বিএনপির কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু বাকি অর্ধেক যে অবস্থান, তা মূলত রাজনৈতিক দ্বিমুখীতা। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০ ও ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশ গড়তে চায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক সমঝোতার উদাহরণ টেনে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন যে, জামায়াতের লিফলেটে সেই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
লিফলেটের বিষয়বস্তু ও মান নিয়ে কটাক্ষ করে আইনমন্ত্রী ১৮৫৪ সালের উপমহাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ‘৩৩-এ পাস’ তত্ত্বের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, “ব্রিটিশরা মনে করত এ দেশের মানুষের বুদ্ধি তাদের অর্ধেক, তাই তারা সাড়ে ৩২ নম্বরে পাসের হার নির্ধারণ করেছিল। এই লিফলেট পড়ে আমার মনে হচ্ছে, তারা কি আমাদের এখনও সেই যুগের অর্ধশিক্ষিত মানুষ ভাবছেন? যেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বা জুলাই সনদের মতো মৌলিক শব্দগুলোই তারা এড়িয়ে গেছেন।”
আইনমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন যে, গণ-অভ্যুত্থান ও জাতীয় ঐকমত্যের যে ভিত্তির ওপর বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে, তাকে অস্বীকার করে কোনো সংস্কার প্রস্তাব গ্রহণ করা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। তিনি জাতীয় চেতনার ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রকৃত সমঝোতার আহ্বান জানান।