১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ১২:৫৯:১১ পূর্বাহ্ন


আমিরাতের ওপেক ছাড়ার ঘোষণা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৯ ১৮:২২:৩৬
আমিরাতের ওপেক ছাড়ার ঘোষণা কেন গুরুত্বপূর্ণ? ছবি: সংগৃহীত


সংযুক্ত আরব আমিরাত তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য ঘোষণা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৭১ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগ থেকেই দেশটি ওপেকের সদস্য ছিল।

ওপেক দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন কোটা নির্ধারণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈশ্বিক তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটে এই সংগঠন বৈশ্বিক জ্বালানি নীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ওপেকের প্রধান উৎপাদনকারী হলেও আমিরাত দ্বিতীয় বৃহত্তম অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষম দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রয়োজন অনুযায়ী উৎপাদন বাড়িয়ে বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

তবে ওপেকের কোটা ব্যবস্থার কারণে আমিরাতের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৩ থেকে ৩.৫ মিলিয়ন ব্যারেলে সীমিত থাকায় সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে এসে পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহারের লক্ষ্যেই দেশটি এই সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের আরেকটি অংশ মনে করছে, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান-সম্পর্কিত পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ইস্যুও এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে নীতিগত টানাপোড়েনও এতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিকভাবে আমিরাত দৈনিক উৎপাদন ৫ মিলিয়ন ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে নতুন পাইপলাইন ও বিকল্প রপ্তানি পথ সম্প্রসারণের উদ্যোগও জোরদার হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ওপেক থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়া সংগঠনটির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। বিশেষ করে এমন সময়, যখন ওপেকের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে বৈশ্বিক তেল উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশ ওপেক নিয়ন্ত্রণ করে, যা অতীতের তুলনায় অনেক কম।

অন্যদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদায় পরিবর্তনও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের বিস্তার এবং চীনের মতো দেশে তেলের ব্যবহার হ্রাস পাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে চাহিদা স্থিতিশীল বা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাতের এই পদক্ষেপ সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশও একই পথে হাঁটতে পারে, যা সৌদি আরবসহ ওপেকের নেতৃত্বে থাকা দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

তবে সামগ্রিকভাবে এই পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদার ভবিষ্যৎ প্রবণতার ওপর।