১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:০০:৪৪ অপরাহ্ন


সাংবাদিকরা বাঁচলে বাংলাদেশের রাজনীতি বাঁচবে: হুইপ
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৮ ১৮:৩৮:৪২
সাংবাদিকরা বাঁচলে বাংলাদেশের রাজনীতি বাঁচবে: হুইপ ছবি: সংগৃহীত


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে তিনি সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা এবং একইসঙ্গে অতীতে পেশাদারিত্বের বিচ্যুতি ঘটানো সাংবাদিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু তার বক্তব্যে দেশের রাজনীতির স্থিতিশীলতার জন্য সাংবাদিকদের ভূমিকাকে অপরিহার্য হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "সাংবাদিকরা বাঁচলে বাংলাদেশের রাজনীতি বাঁচবে।" সাংবাদিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষিত হলেও মালিকপক্ষের অসহযোগিতার কারণে তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি সাংবাদিকদের যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো নিয়মিত বেতন কাঠামো নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। গণমাধ্যমকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা ভালো থাকলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশও সুস্থ থাকবে।

তবে পেশাগত অধিকারের পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতার বিষয়টিও কঠোরভাবে উপস্থাপন করেন এই হুইপ। তিনি বিগত দিনের রাজনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলব হিসেবে যেসব সাংবাদিক কাজ করেছেন এবং যারা চরিত্র হননের রাজনীতিতে লিপ্ত ছিলেন, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। দুলু অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী তাকেসহ ব্যারিস্টার আমিনুল হক, মতিউর রহমান নিজামী এবং দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে পরিকল্পিতভাবে 'জঙ্গি' হিসেবে চিত্রায়িত করেছিল। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইসলামের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে ওইসব সাংবাদিকদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংসদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোকপাত করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশে যে 'ভীতির রাজনীতি' কায়েম হয়েছিল, তার অবসান ঘটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দুলু বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের তৈরি করা সেই ভীতির কারণে তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিতে আসতে ভয় পেত, যা এখন কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারেক রহমান ও শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা যেন কোনো ষড়যন্ত্রে ব্যাহত না হয় সেদিকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে সকল চক্রান্ত নস্যাৎ করে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জাতীয় সংসদের এই হুইপ।