১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:১৬:৩৬ পূর্বাহ্ন


মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে মার্কিন বিশাল বিমানবাহী রণতরী; ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তাপ এখন তুঙ্গে!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৮ ১৮:২৮:২৭
মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে মার্কিন বিশাল বিমানবাহী রণতরী; ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তাপ এখন তুঙ্গে!


মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা যুদ্ধের উত্তেজনা নিরসনে নয়, বরং শক্তি প্রদর্শনে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে যে, তারা ভূমধ্যসাগরে অতিরিক্ত নৌ-বহর এবং একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত বিশাল বিমানবাহী রণতরী (Aircraft Carrier) মোতায়েন করছে। হোয়াইট হাউসের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলে এখন যুদ্ধের দামামা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।


যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি

পেন্টাগনের মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলে সরাসরি কোনো আক্রমণ চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র চুপচাপ বসে থাকবে না। হোয়াইট হাউস থেকে স্পষ্ট বার্তায় বলা হয়েছে, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করবে। এই সামরিক মোতায়েন মূলত ইরানকে যেকোনো ধরণের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা।

সামরিক বিন্যাস ও নৌ-বহরের ক্ষমতা

মোতায়েন করা এই নৌ-বহরে কেবল বিমানবাহী রণতরীই নয়, বরং অত্যাধুনিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং সাবমেরিনও রয়েছে। এই নৌ-শক্তি মোতায়েনের ফলে ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বলয় আরও শক্তিশালী হলো। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক চালিত এই রণতরী মোতায়েন করার অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ

যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক বিন্যাসের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার বাজারগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম রাতারাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন যে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া

পেন্টাগনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশি শক্তির উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে অস্থিরতা আরও বাড়াবে। অন্যদিকে, ইসরায়েল এই মোতায়েনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।