১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪১:৫৮ অপরাহ্ন


ডলারের বাজারে অস্থিরতা কমাতে নতুন চমক: ‘ক্রলিং পেগ’ পদ্ধতিতে টাকার নতুন মান নির্ধারণ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক!
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৮ ১৮:১০:০৫
ডলারের বাজারে অস্থিরতা কমাতে নতুন চমক: ‘ক্রলিং পেগ’ পদ্ধতিতে টাকার নতুন মান নির্ধারণ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক!


দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটাতে এবং ডলারের বিনিময় হারকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনতে বড় ধরনের সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের বিপরীতে টাকার নতুন বিনিময় হার ঘোষণা করেছে, যা এখন থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ক্রলিং পেগ’ (Crawling Peg) পদ্ধতিতে নির্ধারিত হবে।


‘ক্রলিং পেগ’ পদ্ধতিটি আসলে কী?

সহজ কথায়, ‘ক্রলিং পেগ’ হলো একটি মধ্যমপন্থা। এটি পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া (Floating) আবার একদম নির্দিষ্ট করে দেওয়া (Fixed)—এই দুইয়ের মাঝামাঝি একটি ব্যবস্থা। এই পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের একটি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করে দেয়, যার ভেতরে থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো লেনদেন করতে পারে। যদি বাজারের চাহিদা বা সরবরাহ এই সীমার বাইরে চলে যায়, তবেই কেবল কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে।

কেন এই নতুন সিদ্ধান্ত?

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের আনুষ্ঠানিক দরের সাথে কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারের দরের ব্যবধান অনেক বেড়ে গিয়েছিল। এতে প্রবাসী আয় (Remitances) হুন্ডির দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। নতুন এই পদ্ধতি চালুর ফলে:

  • বাজারে স্থিতিশীলতা: ডলারের দাম হুটহাট বিশাল ব্যবধানে বাড়বে বা কমবে না।

  • খোলা বাজারের সাথে সমন্বয়: ব্যাংক রেট ও খোলা বাজারের রেটের মধ্যে ব্যবধান কমে আসবে।

  • রেমিট্যান্স বৃদ্ধি: বৈধ পথে প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর আগ্রহ বাড়বে।

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র জানিয়েছেন, আমদানির ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) কমিয়ে আনাই এই সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “ক্রলিং পেগ চালুর মাধ্যমে ডলারের বাজারে যে কৃত্রিম সংকট ছিল, তা দ্রুত কেটে যাবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

বাজার বিশ্লেষকদের মত

অর্থনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, কেবল পদ্ধতি পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; ডলারের প্রকৃত প্রবাহ বাড়াতে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের ওপর নজরদারি জোরদার করতে হবে। আইএমএফ (IMF)-এর ঋণের শর্ত অনুযায়ী এই বাজারভিত্তিক বিনিময় হার প্রবর্তন বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতারই একটি বহিঃপ্রকাশ।