১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:০৪:৫৩ অপরাহ্ন


সিলেটে হামের প্রাদুর্ভাব: উপচে পড়া হাসপাতালগুলোতে কান্নার রোল, জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি!
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৮ ১৭:৫৭:৩৫
সিলেটে হামের প্রাদুর্ভাব: উপচে পড়া হাসপাতালগুলোতে কান্নার রোল, জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি!


চায়ের রাজধানী সিলেটে হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধি হামের (Measles) প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে হামে আক্রান্ত শতাধিক শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে, যা অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।


বর্তমান পরিস্থিতি ও হাসপাতাল চিত্র

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, শিশুদের জ্বর, কাশি এবং শরীরে লালচে দানাদার ফুসকুড়ি নিয়ে ভিড় করছেন শত শত অভিভাবক। হাসপাতালের বারান্দাতেও অনেক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের অনেকেরই তীব্র শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পদক্ষেপ

সিলেটের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে 'স্পেশাল ক্যাম্প' বসিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) থেকে বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে একটি বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে যা আক্রান্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অভিভাবকদের উদ্দেশে কিছু জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন:

  • শিশুর শরীরে জ্বর ও লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।

  • আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন।

  • প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করুন।

হামের ঝুঁকির কারণ

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দুর্গম এলাকা ও কিছু চা বাগান অঞ্চলে সচেতনতার অভাবে টিকাদানের হার কম ছিল, যা এই প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হতে পারে। এছাড়াও ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং পর্যাপ্ত ওষুধের মজুত রয়েছে। তবে এই সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা ও শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।