১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:০৪:৫৩ অপরাহ্ন


সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে কবে?
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৮ ১৪:৪২:৫১
সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে কবে? ছবি: সংগৃহীত


২০২৪ সালের জুলাই মাসে সূচিত ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত—গত প্রায় ১৮ মাস ধরে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দীর্ঘ এই সময় মাঠপর্যায়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে বাহিনীটি এখন সরকারের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তারা পুনরায় তাদের স্থায়ী ঠিকানা ব্যারাকে ফিরে যেতে পারে। মূলত জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ১৯ জুলাই যখন সারাদেশে কারফিউ জারি করা হয়, তখন থেকেই 'এইড টু সিভিল পাওয়ার' কাঠামোর আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীগুলো কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, তখন দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীই প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।

মাঠপর্যায়ে দীর্ঘ এই অবস্থানে থাকাকালীন সেনাবাহিনী কেবল নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি, বরং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং কিশোর গ্যাং দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে সম্পন্ন করেছে। সামরিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে সেনাবাহিনী প্রায় ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং ২২ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন অপরাধীকে আটক করে বেসামরিক প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে। এছাড়া বাজার তদারকি, মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাইবার অপপ্রচারের মতো বিষয়গুলো মোকাবিলাতেও তাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকাংশে স্বাভাবিক হওয়ায় সেনা ক্যাম্পের সংখ্যাও কমিয়ে আনা হয়েছে। আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে যেখানে সারাদেশে ২০০টির বেশি ক্যাম্প ছিল, বর্তমানে তা কমিয়ে ৫০টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং মাঠে এখন আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।

সেনাবাহিনীর এই দীর্ঘকালীন কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা। ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েক দফায় এই ক্ষমতা বাড়ানো হলেও গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তা আর বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ছাড়াই কেবল ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে কাজ করছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এক দরবারে স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যেতে চায়। তবে তিনি আরও যোগ করেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত পুলিশ বাহিনী পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ না করছে এবং পরিস্থিতি শতভাগ স্বাভাবিক না হচ্ছে, ততক্ষণ কিছু সদস্য মাঠপর্যায়ে সহায়তা দিয়ে যাবেন।

আইএসপিআর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে যে, মাঠপর্যায়ে থাকা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, সেনাসদস্যদের দ্রুতই ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী এক ক্রান্তিকাল থেকে শুরু করে নির্বাচন পরবর্তী স্থিতিশীলতা পর্যন্ত দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন তাদের মূল পেশাগত দায়িত্বে ফেরার চূড়ান্ত প্রস্তুতির অপেক্ষায় রয়েছে।