১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৪০:৩৮ অপরাহ্ন


নেত্রকোনায় জামায়াত এমপি মাছুম মোস্তফার ওপর হামলা: প্রধান আসামি বিএনপি নেতা আবু তাহের, গ্রেপ্তার ৯
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৫ ১৯:০৪:৩৯
নেত্রকোনায় জামায়াত এমপি মাছুম মোস্তফার ওপর হামলা: প্রধান আসামি বিএনপি নেতা আবু তাহের, গ্রেপ্তার ৯


নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাছুম মোস্তফাকে অবরুদ্ধ করে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় এই মামলা করেন। পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত একজনসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার বিবরণ ও অভিযুক্তরা

মামলায় মোট ৬০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে গত নির্বাচনে মাছুম মোস্তফার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবু তাহের তালুকদারকে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন:

  • উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহমেদ বাবু (মামলার ২ নম্বর আসামি)।

  • যুবদল নেতা মো. আনার।

  • উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাজু আহমেদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান কবির পাপ্পু।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম আজ সকালে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জনের মধ্যে ২০ নম্বর আসামি মো. খায়রুল ইসলাম রয়েছেন, বাকি ৮ জন সন্দেহভাজন। তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


ঘটনার নেপথ্যে: নামাজ পড়তে গিয়ে হামলার শিকার

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের আতকাপাড়া গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে। মাছুম মোস্তফা একটি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে ফেরার পথে গাড়িতে তেল নিতে ওই পাম্পে থামেন। তিনি পাম্পের নামাজ ঘরে মাগরিবের নামাজ পড়তে গেলে ১৫টি মোটরসাইকেলে ২৫-৩০ জন যুবক সেখানে এসে হট্টগোল শুরু করে।

একপর্যায়ে তারা এমপির গাড়ি ভাঙচুর করে এবং নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় তাঁকে ধাওয়া করে অবরুদ্ধ করে রাখে। পাম্পে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেলে ঘণ্টাখানেক পর উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার এবং অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) পাঠানো গাড়িতে করে তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।


পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

রাত ১০টায় এক সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা দাবি করেন, তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, "ইশতিয়াক আহমেদ বাবুর নেতৃত্বে আমার ওপর হামলা হয়েছে। আমি পুলিশকে অনুরোধ করব অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে।"

অন্যদিকে, প্রধান আসামি বিএনপি নেতা আবু তাহের তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "ঘটনার সময় আমি ঢাকায় ছিলাম। খবর পেয়ে আমাদের দলের নেতা বাবুল আলম তালুকদারকে পাঠিয়েই পরিস্থিতি শান্ত করি এবং এমপিকে উদ্ধার করতে সহায়তা করি। অথচ এখন প্রতিহিংসাবশত আমাকেই প্রধান আসামি করা হয়েছে। আমার কোনো কর্মী এই হামলায় জড়িত নয়।"


নির্বাচনী প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৫ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। জামায়াতের মাছুম মোস্তফা ৮২,১৭৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর ধানের শীষ প্রতীকে আবু তাহের তালুকদার পান ৭৯,৪১২ ভোট। নির্বাচনের পর থেকেই এই দুই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা এই হামলার মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে এল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।