১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:০০:২১ অপরাহ্ন


কৃষকদের কথা মাথায় রেখে ঢাকায় লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৩ ১৯:০১:১৯
কৃষকদের কথা মাথায় রেখে ঢাকায় লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত ছবি: সংগৃহীত


চলমান তীব্র দাবদাহের মধ্যে দেশজুড়ে অসহনীয় লোডশেডিং ও সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তিতে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বিনয় ও আন্তরিকতার সাথে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২০তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সরকারের এই অবস্থান ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে নতুন পরিকল্পনার কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, জনগণের কষ্ট লাঘব করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী তার বিবৃতিতে শহর ও গ্রামের মধ্যকার বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনে এক সাহসী পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন এক বাংলাদেশ গড়া। সেই আদর্শকে ধারণ করে তিনি বলেন, শহরের মানুষ আরামে থাকবে আর গ্রামের খেটে খাওয়া কৃষক ফসল ওঠার মৌসুমে সেচ সংকটে ভুগবে—এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই বৈষম্য দূর করতে এবং কৃষকদের সেচকাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনাক্রমে ঢাকা শহরে প্রাথমিকভাবে ১১০ মেগাওয়াট পরীক্ষামূলক লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে শহরের বিদ্যুতের একটি অংশ সাশ্রয় করে তা সরাসরি গ্রামে কৃষকের কল্যাণে পৌঁছে দেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান সংকটটি পুঞ্জীভূত সমস্যার ফল, যার দায়ভার বর্তমান নির্বাচিত সরকারের নয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অব্যবস্থাপনা এবং কাগজে-কলমে দেখানো উৎপাদন ক্ষমতার সাথে বাস্তবতার বিস্তর গড়মিলকে তিনি এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেন। পরিসংখ্যানে তিনি দেখান, গতকাল দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট, যার বিপরীতে উৎপাদন সম্ভব হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। ফলে ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। গ্যাসের ক্ষেত্রেও দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি থাকছে ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকার মধ্যেই গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেশবাসী দেখতে পাবেন।

তবে দেশবাসীর জন্য আশার বাণী শুনিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যেই লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণ জনিত কারণে একটি আমদানিকৃত এবং একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ সাময়িক বন্ধ থাকলেও আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তারা পূর্ণ উৎপাদনে ফিরবে। ফলে বর্তমানের ২ হাজার মেগাওয়াটের লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকটাই কমে আসবে। সবশেষে, সংকট নিরসনে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের কমিটি গঠনকে তিনি একটি ঐতিহাসিক নজির হিসেবে অভিহিত করেন এবং জাতীয় সব সংকট সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।