১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:২৫:৫২ অপরাহ্ন


‘নাম আব্দুর রহিম, বিকাশ নম্বর মেম্বার-চেয়ারম্যানের’—ভাতা বিতরণে অনিয়মের তথ্য দিলেন সংসদে
সংসদীয় প্রতিবেদক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৫ ২২:১৫:৫৪
‘নাম আব্দুর রহিম, বিকাশ নম্বর মেম্বার-চেয়ারম্যানের’—ভাতা বিতরণে অনিয়মের তথ্য দিলেন সংসদে নড়াইল-২ আসনে জামায়াতের এমপি আতাউর রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া


সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার অর্থ বিতরণে চরম অব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে সংসদ উত্তাল করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান। তাঁর দাবি, প্রকৃত ভাতাভোগীর বদলে অর্থ চলে যাচ্ছে প্রভাবশালী মহলের পকেটে।

"আব্দুর রহিমের টাকা যাচ্ছে মেম্বারের ফোনে"

প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে আতাউর রহমান বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা বিতরণের যে ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়ে গেছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন:

“অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভাতাভোগীর নামে ভাতা বরাদ্দ থাকলেও বিকাশ বা নগদ নম্বর হিসেবে অন্য কারও; বিশেষ করে স্থানীয় মেম্বার বা চেয়ারম্যানের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, নাম থাকে আব্দুর রহিমের, কিন্তু বিকাশ নম্বর থাকে মেম্বার-চেয়ারম্যানের।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, দলীয়করণের কারণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যদি সরকারদলীয় না হন, তবে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অযাচিত প্রভাব বিস্তার করেন। এর ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল ‘প্রতীকী’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার চেতনার সঙ্গে এটি সাংঘর্ষিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের অবস্থান ও প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

সংসদ সদস্যের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্‌ ফারজানা শারমীন, এমপি তাৎক্ষণিক কোনো প্রশাসনিক সমাধান না দিলেও সরকারের সদিচ্ছার কথা জানান। বিষয়টি কার্য তালিকায় না থাকায় তিনি পরবর্তীতে লিখিত নোটিশ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন:

“বর্তমান সরকার সব ধরনের স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম দূর করে সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে। অতীতে বিতরণ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও সমস্যার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে সবার জন্য একটি সমতাভিত্তিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।”

মোবাইল ওয়ালেট নিয়ে জটিলতা

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা বিতরণে অসংগতির একটি মানবিক দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক বয়স্ক বা প্রান্তিক মানুষ নিজেরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে ছেলে, নাতি বা আত্মীয়ের নম্বর দেন, যা থেকে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন:

“এই ভাতা ৫০০ বা ৭০০ টাকা হলেও অনেক মানুষের জন্য তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যার টাকা, তা যেন তার কাছেই পৌঁছায়—সেদিকে আমাদের নজর থাকবে।”

আগামী দিনের পদক্ষেপ

প্রতিমন্ত্রী জানান, ভাতার অর্থ সরাসরি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে দিতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থার মতো আরও পরিশীলিত ও কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করার কথা ভাবছে। অনিয়ম রোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে বলেও তিনি সংসদকে জানান।