১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন


পেপ্যাল আসছে দেশে, কার্ড পাবেন ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২২ ১৮:২১:৫৫
পেপ্যাল আসছে দেশে, কার্ড পাবেন ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার ছবি: সংগৃহীত


বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং খাতের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ ও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ (PayPal) চালুর লক্ষ্যে সরকার অত্যন্ত কার্যকর এবং জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশে বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার একটি বিশেষ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যার অন্যতম অংশ হলো এই আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসা।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন যে, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাই-টেক ও সফটওয়্যার পার্ক এবং আইসিটি সেন্টারগুলোকে আরও গতিশীল করতে কাজ চলছে। বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা যাচাই ও এটি দ্রুত চালুর উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে বর্তমানে ৮৩টি সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে আরও ১০টি নতুন সেবা এই তালিকায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্সিং খাতকে স্বীকৃতি দিতে আগামী ৫ বছরে ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭,৫০০ জন ফ্রিল্যান্সারকে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মাধ্যমে আরও ১,০০০ জন নতুন ফ্রিল্যান্সার তৈরির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের মধ্যে ২,৪০০ জনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং (ML) এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো উচ্চপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলও (বিসিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগামী ৫ বছরে প্রায় ৫ হাজার ২০ জন তরুণকে ডাটা অ্যানালাইটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি, পাইথন প্রোগ্রামিং এবং মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের মতো বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী ডিপ্লোমা ও স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়াও আইটি ইঞ্জিনিয়ার্স এক্সামিনেশন (ITEE) প্রকল্পের আওতায় ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ জন শিক্ষার্থীর প্রশিক্ষণ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

মহাপরিকল্পনার বিশেষ দিক হিসেবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের বিষয়টিকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭০০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে কম্পিউটারে স্বাবলম্বী করতে এবং ৭০০ জন নারী উদ্যোক্তার ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পেপ্যাল চালু এবং এসব বহুমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের বাজারে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।