১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৪৮:২৩ অপরাহ্ন


রাকসুর ভোট চাইতে গিয়ে পরিচয়, তারপর প্রেম-বিয়ে
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২০ ১৯:৩৫:০২
রাকসুর ভোট চাইতে গিয়ে পরিচয়, তারপর প্রেম-বিয়ে ছবি: সংগৃহীত


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মাঠ থেকে শুরু হওয়া এক প্রেমের গল্প অবশেষে পরিণয় খুঁজে পেয়েছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হওয়া ঐতিহাসিক রাকসু নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালীন পরিচয় হয়েছিল ইমন ও মুসলিমার। সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, প্রেম এবং মাত্র চার মাসের মাথায় তারা এখন বিবাহিত দম্পতি।

রিদুয়ানুল হক ইমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং মুসলিম্যা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ইমন গত রাকসু নির্বাচনে ছাত্র অধিকার পরিষদের প্যানেল থেকে সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। প্রচারণার শেষ দিনে মমতাজ উদ্দীন কলাভবনের সামনে মুসলিমার সঙ্গে তার প্রথম দেখা হয়। এরপর ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু এবং একপর্যায়ে তালাইমারি এলাকায় একসঙ্গে চা আড্ডার মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক গভীর হয়।

তাদের এই সম্পর্কের বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হয় মুসলিমার হঠাৎ অসুস্থতার পর। ইমন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মুসলিমার ভাইয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে শুরুতে দুই পরিবারই কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল, কারণ তারা দুজনেই এখনো শিক্ষার্থী। তবে ইমন ও মুসলিমার দৃঢ় ইচ্ছার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মেনে দুই পরিবারই সম্মতিতে পৌঁছায়। গত ৭ এপ্রিল রাজশাহীর বিনোদপুর কাজী অফিসে ঘরোয়াভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং ১৭ এপ্রিল তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ করেন।

মুসলিমা তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, সবকিছু খুব দ্রুত হয়ে গেলেও তাদের সম্পর্কের গভীরতা অনেক। পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হওয়ায় তারা এখন নিশ্চিন্ত মনে ভবিষ্যৎ গড়তে চান। অন্যদিকে ইমনের লক্ষ্য হলো, পড়াশোনা শেষ করে ভালো ক্যারিয়ার গড়ে তোলা এবং স্ত্রীকে নিয়ে সুন্দর একটি জীবন শুরু করা। ক্যাম্পাসের চিরচেনা সেই নির্বাচনি প্রচারণা যে তাদের জীবনের মোড় এভাবে ঘুরিয়ে দেবে, তা এখন রাবি শিক্ষার্থীদের মাঝে এক চমৎকার আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।