ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর)-এর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ৩৬ জনের যে তালিকা প্রকাশ করেন, সেখানে তার নাম আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ‘আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতা’র নানা প্রমাণ ভাইরাল হতে শুরু করে।
ভাইরাল হওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে গঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সুবর্ণা ঠাকুর বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই কমিটির ২৭ নম্বর ক্রমিকে তার নাম স্পষ্ট রয়েছে। শুধু পদ নয়, এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম হাতে নিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের অনেক নেতার মতে, যেখানে বছরের পর বছর জেল-জুলুম সহ্য করা ত্যাগী নারী নেত্রীরা মনোনয়ন পাননি, সেখানে অন্য দলের পদধারী নেত্রীকে মূল্যায়ন করা দলের আদর্শের পরিপন্থী। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় একটি অংশ একে ‘কৌশলগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখছে।
বিতর্কের মুখে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে সুবর্ণা শিকদার দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের কমিটিতে তার অনুমতি ছাড়াই নাম রাখা হয়েছিল এবং তিনি কখনও ওই দলের সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না। তবে ভিডিও এবং দলীয় নথিতে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ থাকায় এই মনোনয়ন ইস্যুটি এখন বিএনপির ভেতরে বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা দলের মনোনয়ন বোর্ডের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।