১৩ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ১০:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন


ট্যাংকারে তেল উপচে পড়লেও নিচ্ছে না সরকার: কৃত্রিম সংকটে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১৯ ১৬:২৯:৫৩
ট্যাংকারে তেল উপচে পড়লেও নিচ্ছে না সরকার: কৃত্রিম সংকটে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি


দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে এক অদ্ভুত ও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য কিলোমিটারব্যাপী দীর্ঘ লাইন, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্যাংকারে পেট্রোল ও অকটেন উপচে পড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশীয় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তেল গ্রহণ করছে না।

মজুত উপচে পড়লেও গ্রহণে অনীহা

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দেশের পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশ জোগান দেয় স্থানীয় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি।

  • চিঠির মাধ্যমে অস্বীকৃতি: গত ৮ এপ্রিল বিপিসি এক চিঠিতে এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে তেল নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে কোম্পানিটির ট্যাংকারগুলো এখন পূর্ণ হয়ে আছে এবং নতুন করে উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

  • বিপিসির সংকট: বিপিসির অকটেন মজুতের সক্ষমতা ৫৩ হাজার টন হলেও বর্তমানে মজুত আছে ৫৫ হাজার টন। এর মধ্যে নতুন করে ৩৭ হাজার টনের আরও একটি জাহাজ আসায় বিপিসি এখন সংরক্ষণ সংকটে ভুগছে।

পাম্পে হাহাকার ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

পাম্পগুলোতে ১-২ কিলোমিটার লম্বা লাইন এবং জনগণের চরম ভোগান্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক বৈঠক করেছেন। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন এবং এই সংকটের পেছনে কোনো অব্যবস্থাপনা বা কারসাজি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন।

ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য

সুপার পেট্রোকেমিক্যালের সিইও প্রণব কুমার সাহা জানান, বিপিসির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা তেল প্রস্তুত রাখলেও শেষ মুহূর্তে বিতরণ কোম্পানিগুলো তেল নেওয়া বন্ধ করে দেয়। ২০ এপ্রিল কাঁচামাল নিয়ে আরেকটি জাহাজ আসার কথা থাকলেও ট্যাংক খালি না হওয়ায় উৎপাদন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এমডি শাহীরুল হাসান স্বীকার করেছেন যে, সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় তারা দেশীয় কোম্পানি থেকে তেল নিতে পারছেন না।

সংকটের নেপথ্যে ‘রেশনিং’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর সরকার তেল সরবরাহে রেশনিং চালু করেছিল। ঈদের আগে তা তুলে নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সরবরাহ সীমিত রাখা হয়েছে। এই সীমিত সরবরাহের খবর বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও মজুতদাররা অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করায় পাম্পে দীর্ঘ জটলা তৈরি হচ্ছে।