১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:২৭:১৬ অপরাহ্ন


পুলিশ কনস্টেবল সম্রাটের আত্মহত্যা: দাম্পত্য কলহ নাকি অন্য কিছু?
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১৯ ১৫:৫২:২৩
পুলিশ কনস্টেবল সম্রাটের আত্মহত্যা: দাম্পত্য কলহ নাকি অন্য কিছু?


খুলনার সোনাডাঙ্গা রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনসের অস্ত্রাগারে ডিউটিরত অবস্থায় নিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাস। শনিবার বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরপদ্মবিলা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ২০১৮ সালে পুলিশে যোগ দেওয়া সম্রাটের এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পারিবারিক ভাষ্য

সম্রাট বিশ্বাসের পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনদের দাবি, এই আত্মহত্যার মূল কারণ তীব্র দাম্পত্য কলহ। সম্রাটের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে যা জানা গেছে:

  • প্রেম ও বিয়ে: সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত নারী কনস্টেবল পূজা দাসের সঙ্গে সম্রাটের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় ছয় মাস আগে পরিবারের সম্মতিতে তারা রেজিস্ট্রি বিয়ে (কোর্ট ম্যারেজ) করেন।

  • কলহের সূত্রপাত: আগামী ১৯ বৈশাখ পারিবারিকভাবে অনুষ্ঠান করে স্ত্রীকে ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে পূজা ও সম্রাটের মধ্যে চরম অশান্তি চলছিল। সম্রাটের মামা সত্যজিৎ রায়ের দাবি, বিয়ের পর থেকে সম্রাট পরিবারে কোনো টাকা দিতেন না, সব টাকা তার স্ত্রী নিয়ে নিতেন।

  • শেষ রাত: সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, আত্মহত্যার আগের রাতে ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে সম্রাটের প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি হয়। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সম্রাট পরদিন ভোরে অস্ত্রাগারে দায়িত্ব পালনকালেই নিজের জীবন কেড়ে নেন।

অমীমাংসিত প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা

সম্রাটের স্ত্রী পূজা বিশ্বাস এবং তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন সম্রাটের মরদেহ দেখতে খুলনায় গেলেও, গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে আসেননি। এটি সম্রাটের পরিবারের মনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। সম্রাটের বাবা-মা শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তাদের মতে, পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে সম্রাটের সব আবদারই মেনে নেওয়া হতো, তবুও কেন তিনি এমন পথ বেছে নিলেন তা এখনো রহস্যে ঘেরা।

প্রতিবেশীদের মতে, সম্রাট অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। কারো সাথে তার কোনো বিরোধ ছিল না। পুলিশ বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করছে যে এটি শুধুই আবেগপ্রসূত আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে আরও কোনো গভীর কারণ লুকানো আছে।