১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:১৭:২২ পূর্বাহ্ন


চোর-ডাকাত ধরা পড়লেও তাদের মারধর করা যাবে না
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১৫ ১৭:৫৯:২৭
চোর-ডাকাত ধরা পড়লেও তাদের মারধর করা যাবে না ছবি: সংগৃহীত


দেশে সাম্প্রতিক ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনির মতো সহিংস ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। চোর বা ডাকাত হাতেনাতে ধরা পড়লেও তাকে মারধর করা বা পিটিয়ে মারা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সমাজে এমন একটি বিপজ্জনক মানসিকতা তৈরি হয়েছে যে, মানুষ মনে করছে তারা নিজেরাই অপরাধীকে শাস্তি দিতে পারে। এই প্রবণতা হঠাৎ তৈরি হয়নি; অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল বলে সাধারণ মানুষের মনে এমন ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে একটি ঘটনায় মামলা দায়ের করে আসামিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

মব ও পরিকল্পিত সহিংসতার পার্থক্য তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “মব সাধারণত স্বতঃস্ফূর্ত ও অসংগঠিত হয়। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে লোক জড়ো করে হামলা বা অবরোধ করা হচ্ছে—যা প্রকৃতপক্ষে মব নয়, বরং সংগঠিত অপরাধ।” এ ধরনের পরিকল্পিত অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

ফৌজদারি অপরাধ কখনো তামাদি হয় না—স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মবের নামে যেসব পরিকল্পিত ঘটনা ঘটানো হয়েছে, সেগুলোও সরকার খতিয়ে দেখবে। সামাজিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এসব সহিংসতার বিচার নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার বদ্ধপরিকর। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের নাগরিকদের আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।