১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:০৩:৪৬ অপরাহ্ন


হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ হল রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার নেতৃত্বে
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১৪ ১৫:১৭:০১
হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ হল রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার নেতৃত্বে ছবি: সংগৃহীত


জীর্ণ পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনের আহবানে মুখরিত হয়ে উঠেছে ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবর। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানাতে সেখানে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য ‘হাজার কণ্ঠে বর্ষবরণ’ অনুষ্ঠান। চ্যানেল আই এবং সুরের ধারার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি বরাবরের মতোই ছিল বাঙালিয়ানার প্রাণকেন্দ্র। ভোরের আলো ফোটার আগেই রবীন্দ্রসরোবর এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে উৎসবপ্রিয় মানুষের উপস্থিতিতে। সূর্য ওঠার আগেই সাধারণ মানুষের এই ঢল প্রমাণ করে দিয়েছে শেকড়ের টানে বাঙালির সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা কতটা গভীর।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার নেতৃত্বে হাজারো শিল্পীর সমবেত কণ্ঠ। ‘ওঠো ওঠো ওঠোরে…’ গানের মধ্য দিয়ে নতুন বছরের আবাহন শুরু হয়। এরপর হাজারো কণ্ঠের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গান পরিবেশন করেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা নিজে। উৎসবের এই মঞ্চে আরও সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দেন বরেণ্য শিল্পী রফিকুল আলম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, কিরণ চন্দ্র রায় এবং স্বাতী সরকার। লোকসংগীতের ছোঁয়ায় অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন শিল্পী কোনাল, যিনি বাউল সাধক শাহ আবদুল করিমের গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।

সংগীতের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের দরাজ কণ্ঠের আবৃত্তি। তাঁর পরিবেশনা অনুষ্ঠানস্থলে এক ভিন্ন মাত্রার গাম্ভীর্য ও মুগ্ধতা তৈরি করে। পুরো আয়োজনের সমাপ্তি টানা হয় বাঙালির বৈশাখ বরণের চিরায়ত গান ‘এসো হে বৈশাখ’-এর সম্মিলিত সুরের মাধ্যমে।

এর আগে বিদায়ী বছরের শেষ দিনে, অর্থাৎ সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয় চৈত্রসংক্রান্তির বিশেষ আয়োজন। বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বুলবুল ইসলাম, চন্দনা মজুমদার, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, প্রিয়াংকা গোপ এবং স্বাতী সরকার। গানের সাথে ছিল ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডালিয়ার চমৎকার আবৃত্তি এবং ওয়ার্দা রিহাব ও প্রেমার নান্দনিক নৃত্য পরিবেশনা। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে উপস্থাপনা করেন সামান্তা ইসলাম এবং সানজিদা। মূলত চৈত্রসংক্রান্তির বিদায়ী সুর আর বর্ষবরণের নতুন আবাহন—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে রবীন্দ্রসরোবর হয়ে উঠেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ।