শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সংসদ সদস্যদের কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হতেও কোনো দ্বিধা নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি মনে করেন, সংসদে শিক্ষার সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা বা ‘ঝড়’ উঠলে সরকার সেগুলো অধিক গুরুত্বের সাথে আমলে নেবে, যা চূড়ান্তভাবে ছাত্র-শিক্ষক সবার জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে।
সোমবার দুপুরে যশোর শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্র সচিবদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশনে নতুন নির্দেশনা
শিক্ষামন্ত্রী ভর্তির নামে বারবার অর্থ আদায় বন্ধের কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, "এক মুরগি তিনবার জবাই করা যাবে না।" তিনি নির্দেশ দেন যে, শিক্ষাক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন হবে মাত্র একবারই। এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে ওঠার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনরায় নতুন করে ভর্তির নামে বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
ডিজিটাল নকল ও শিক্ষকদের ভূমিকা
পরীক্ষায় নকলের আধুনিকায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, করোনার ভেরিয়েন্টের মতো এখন নকলেরও নানা 'ডিজিটাল ভেরিয়েন্ট' তৈরি হয়েছে। তবে তিনি শিক্ষার্থীদের চেয়ে শিক্ষকদের দায়িত্বকেই বড় করে দেখেন। তিনি বলেন, "ছেলেমেয়েরা যদি নকল করতে চায়, সেটি তাদের দুর্বলতা নয়—বরং এটি শিক্ষকদের দুর্বলতা। শিক্ষকরা কেন শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ঠিকমতো তৈরি করতে পারছেন না, তা খুঁজে বের করতে হবে।"
ব্যক্তিগত ট্রল ও আগামীর ভাবনা
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে হওয়া নানা ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট বা ট্রল প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, তিনি বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন এবং এগুলো উপভোগ করছেন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসাম্মৎ আসমা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।