১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৩৫:৩৩ অপরাহ্ন


দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ: ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ‘লুজার’ কি ট্রাম্প?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১২ ১৬:৩৭:৪৭
দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ: ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ‘লুজার’ কি ট্রাম্প? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প/ ফাইল ছবি: হোয়াইট হাউজ


সব যুদ্ধেই কোনো না কোনো পক্ষ পরাজিত হয়। ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংকটে যদি এই যুদ্ধবিরতিই শেষ কথা হয়, তবে কৌশলগতভাবে সবচেয়ে বড় পরাজয় হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। প্রতিবেদনটিতে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি, নৈতিক অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তাঁর দূরদর্শিতার সীমাবদ্ধতাগুলো কঠোরভাবে ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে।

কেন ট্রাম্পকে ‘লুজার’ বলা হচ্ছে?

ইকোনমিস্টের মতে, ট্রাম্পের এই যুদ্ধ শুরুর তিনটি প্রধান লক্ষ্য ছিল: ইরানকে দমন করে মধ্যপ্রাচ্যকে নিরাপদ করা, বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো এবং পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন:

  • শাসনব্যবস্থা অপরিবর্তিত: ইরানের শাসনব্যবস্থা পতনের পরিবর্তে আরও উগ্র জাতীয়তাবাদী সামরিক শক্তির (আইআরজিসি) হাতে চলে গেছে।

  • পারমাণবিক ঝুঁকি বৃদ্ধি: যুদ্ধের ফলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো দেশটির হাতে রয়ে গেছে, যা ১০টি বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট।

  • আঞ্চলিক অস্থিরতা: হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ইরান নতুন শক্তির উৎস তৈরি করেছে।

ভঙ্গুর শান্তি ও ট্রাম্পের পিছুটান

ইকোনমিস্ট বলছে, ট্রাম্পের জঘন্য সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলো মূলত তাঁর পিছু হটাকে আড়াল করার চেষ্টা। তিনি এখন বুঝতে পারছেন যে, এই যুদ্ধ কখনোই শুরু করা উচিত ছিল না। কারণ নতুন করে যুদ্ধ মানেই বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতা এবং তাঁর ঘোষিত ‘মধ্যপ্রাচ্যের সোনালি যুগ’ ধারণার মৃত্যু।

যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক ও সামরিক সীমাবদ্ধতা

প্রতিবেদনটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির সীমাবদ্ধতা নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরা হয়েছে:

  1. উৎপাদন সক্ষমতা: মার্কিন কারখানাগুলো দ্রুত রসদ সরবরাহ করতে পারছে না, সেখানে ইরান সীমিত অস্ত্র নিয়ে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে গেছে।

  2. নৈতিক পরাজয়: ট্রাম্প যখন একটি সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দেন, তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘নৈতিক কর্তৃত্ব’ হারান। বর্তমানে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরায়েলকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।

ইকোনমিস্টের ভাষায়, ট্রাম্প ইরান যুদ্ধকে একটি ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’ বা নিজের অহংবোধের জায়গা হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু সুস্পষ্ট কৌশল ছাড়া অতিরিক্ত সামরিক শক্তি প্রয়োগ যে শেষ পর্যন্ত বিপরীত ফলই বয়ে আনে, এই যুদ্ধ তার জ্বলন্ত উদাহরণ।