রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে ১১টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে ‘ঢাকা যানজট নিরসন কমিটি’ নামের একটি বেসরকারি সংগঠন। রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি ইছহাক দুলাল এসব প্রস্তাবনা পেশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে ঢাকায় গাড়ির গড় গতিবেগ ঘণ্টাপ্রতি মাত্র ৪.৫ থেকে ৭ কিলোমিটারে নেমে এসেছে, যা ২০০৮ সালেও ছিল ২১ কিলোমিটার। সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, যানজটের কারণে বছরে জনপ্রতি প্রায় ২৭৬ ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
যানজট নিরসনে ১১ দফা প্রস্তাবনা হলো—
১. জলপথের সংস্কার : ঢাকার চারদিকের খালগুলো সংস্কার করে স্পিডবোট, ওয়াটার বাস ও ছোট লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করা।
২. ট্রাম রোড : শহরের চারপাশের নদী ঘেঁষে একটি ট্রাম রোড বা মিনি রেলপথ স্থাপন।
৩. রিং রোড : এই মিনি রেলপথের পাশ দিয়ে একটি রিং রোড তৈরি করা।
৪. বাস টার্মিনাল স্থানান্তর : সায়েদাবাদ টার্মিনালকে কাঁচপুরে, মহাখালীকে টঙ্গীতে এবং বাবুবাজার স্ট্যান্ডকে কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়া।
(গাবতলী বর্তমান স্থানেই থাকবে)।৫. রেলপথ সংযোগ : কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বাইপাস রেললাইন বা উড়াল সেতু নির্মাণ করা।
৬. আদালত ও জেলখানা একীভূতকরণ : ঢাকার দুটি জোনে আদালত স্থাপন। জোন-১ কেরানীগঞ্জ জেলখানার পাশে এবং জোন-২ কাশিমপুর জেলখানার পাশে আদালত ভবন স্থানান্তর করা।
৭. ১০০ কিলোমিটার ট্রেন সার্ভিস : ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা শহরগুলোর সঙ্গে ১০০ কিলোমিটার নিরবচ্ছিন্ন ট্রেন যোগাযোগ চালু করে ঢাকার ওপর মানুষের চাপ কমানো।
৮. ফুটপাত দখলমুক্ত ও হলিডে মার্কেট : ফুটপাত হকারমুক্ত করে নির্দিষ্ট ছুটির দিনে এলাকার উন্মুক্ত স্থানে ‘হলিডে মার্কেট’ চালু করা।
৯. ট্রাফিক প্রশিক্ষণ : ট্রাফিক কর্মকর্তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চালকদের মাসে অন্তত একবার ট্রাফিক আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা।
১০. ভর্তুকি মূল্যে নগর পরিবহন : সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে উন্নত বাস সার্ভিস চালু। এসি বাসের লভ্যাংশ দিয়ে নন-এসি বাসে ৫ থেকে ২০ টাকা ভাড়ায় ভর্তুকি দেওয়া।
১১. গ্যাসের যৌক্তিক ব্যবহার : ব্যক্তিগত গাড়িতে গ্যাস দেওয়া বন্ধ করে সেই গ্যাস রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানায় সরবরাহ করা, যাতে রেমিট্যান্স ও উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
সংবাদ সম্মেলনে ইছহাক দুলাল সতর্ক করে বলেন, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২৫ কোটিতে পৌঁছাবে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঢাকার পরিস্থিতি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।