জাতীয় সংসদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পাওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুম প্রতিরোধ আইন ও গণভোট অধ্যাদেশসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৩টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশনে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পাওয়ায় এ আইনগত শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
বাতিল হওয়া উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশসমূহ
বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য স্পর্শকাতর বেশ কিছু বিধান ছিল:
গণভোট অধ্যাদেশ: এটি বাতিল হওয়ায় সাম্প্রতিক গণভোটের আইনি বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের অবকাশ তৈরি হয়েছে।
গুম প্রতিরোধ আইন: আন্তর্জাতিক গুম বিরোধী সনদের আলোকে প্রণীত এই বিশেষ রক্ষা কবজটি এখন অকার্যকর।
পুলিশ কমিশন গঠন: পুলিশ সংস্কারের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে জারি করা এই অধ্যাদেশটিও বাতিল হয়ে গেছে।
আর্থিক খাত: রাজস্বনীতি, আয়কর ও কাস্টমস সংশোধন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশোধন এবং মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক আইন সংক্রান্ত বিধানগুলোও কার্যকারিতা হারিয়েছে।
কেন বাতিল হলো?
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ বহাল না থাকাকালে রাষ্ট্রপতি কোনো অধ্যাদেশ জারি করলে, সংসদের পরবর্তী প্রথম অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে সেটি অনুমোদন করতে হয়। অন্যথায় সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। সংসদের সদ্য সমাপ্ত অধিবেশনে ২৪টি বিল পাস হলেও এই ১৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে কোনো বিল উত্থাপন করা হয়নি।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে, সংসদ না থাকা অবস্থায় সংবিধান সংশোধনের মতো মৌলিক সিদ্ধান্তগুলো অধ্যাদেশের মাধ্যমে নেওয়া উচিত নয়। ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতবিরোধ ছিল, এই আইনি জটিলতা তাকে আরও উসকে দিয়েছে।
আইনি শূন্যতার ঝুঁকি
সংসদে ১১৩টি অধ্যাদেশ অনুমোদন পেলেও এই গুরুত্বপূর্ণ ২০টি (পূর্বের ও সাম্প্রতিক মিলিয়ে) অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় গুমের তদন্ত, রাজস্ব আদায় এবং দুর্নীতি দমনের মতো প্রক্রিয়ায় নীতিগত জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে গণভোটের মাধ্যমে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।