১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:৫৯:২৬ অপরাহ্ন


ন্যাটোকে ‘ব্যর্থ’ ঘোষণা করে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০৯ ২০:৪০:৩০
ন্যাটোকে ‘ব্যর্থ’ ঘোষণা করে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিলেন ট্রাম্প ন্যাটো মহাসচিব ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ছবি: এপি


ইরান-মার্কিন উত্তেজনার আবহে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ভূমিকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে দুই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর তিনি জোটটিকে সরাসরি ‘ব্যর্থ’ বলে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের বিতর্কিত হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ন্যাটোর প্রতি ট্রাম্পের ক্ষোভ

বৈঠক শেষে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “ন্যাটো যখন আমাদের প্রয়োজন ছিল তখন পাশে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও তারা পাশে থাকবে না।” মূলত ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংকটে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় ট্রাম্পের এই ক্ষোভ।

এদিকে, সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট ট্রাম্পের হতাশার কথা স্বীকার করলেও পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন। রুট বলেন, “ইউরোপের বড় একটি অংশ ঘাঁটি, লজিস্টিকস ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুবিধা দিয়ে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করেছে। ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দমনে ইউরোপের সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক।”

সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ও শাস্তি

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পর্যাপ্ত সহায়তা না করা ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর ওপর চটেছেন ট্রাম্প। তিনি পরিকল্পনা করছেন, সেসব দেশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার। যদিও পুরো ন্যাটো জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, তাই আপাতত ট্রাম্প নির্দিষ্ট কিছু দেশকেই টার্গেট করছেন।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য

বৈঠকের পরই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পুরোনো বিতর্ক আবারও উসকে দিলেন ট্রাম্প। তিনি গ্রিনল্যান্ডকে ‘বড়, খারাপভাবে পরিচালিত বরফের টুকরো’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আবারও তা দখলের ইঙ্গিতপূর্ণ হুমকি দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর প্রতি ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এই ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে। গত ছয় সপ্তাহে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করলেও ট্রাম্পের এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি ন্যাটোর ভবিষ্যৎ অস্তিত্বকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।