১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন


রাষ্ট্রীয় সফরে ভাতর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০৮ ১৯:৫০:৪৬
রাষ্ট্রীয় সফরে ভাতর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছবি: সংগৃহীত


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাওয়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারেক রহমান। আগামী মে মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে তৈরি হওয়া কিছুটা শীতল ও দূরত্বপূর্ণ সম্পর্ক কাটিয়ে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই এই সফরের মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। দীর্ঘস্থায়ী এই বৈঠকে আসন্ন সফর এবং দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চুক্তির খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, নয়াদিল্লি এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে রাজকীয় আতিথেয়তার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকেও বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তারেক রহমানের এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনার টেবিলে থাকা প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের একটি বিশাল আর্থিক সহায়তা বা ক্রেডিট লাইনের ঘোষণা। এছাড়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার বিষয়টি এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে একটি স্থায়ী চুক্তি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে। এতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা থাকতে পারেন। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের ভারত সফর এই শীর্ষ বৈঠকের পটভূমি তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে তা দূর হবে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এই সফরটি একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। যদিও সফরের চূড়ান্ত সূচি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন শেষ মুহূর্তের রূপরেখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে।