১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:২৫:১৩ অপরাহ্ন


চীনের কূটনৈতিক উদ্যোগেই আলোচনার টেবিলে আসে ইরান!
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০৮ ১৮:১০:০৫
চীনের কূটনৈতিক উদ্যোগেই আলোচনার টেবিলে আসে ইরান! ছবি: সংগৃহীত


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পেছনে নেপথ্যের কারিগর হিসেবে চীনের নাম জোরালোভাবে উঠে এসেছে। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে বেইজিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এ বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও চীনের সম্পৃক্ততার খবরকে তিনি নাকচ করে দেননি, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ার সুবাদে চীন তেহরানের ওপর বিশেষ চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে চীন সরাসরি সামনে না এসে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার প্রতিটি পর্যায়ে চীনা কর্মকর্তারা ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে সংঘাত নিরসনে নিরলসভাবে উৎসাহ জুগিয়েছেন। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসও আগে জানিয়েছিল যে, সংঘাত শুরুর পর থেকেই তারা ‘শান্তির জন্য’ নেপথ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

এই যুদ্ধবিরতির পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে আগামী মে মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত চীন সফরকে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এই বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়ছিল, যা বেইজিংয়ের জন্য কৌশলগতভাবে অস্বস্তিকর ছিল। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছিলেন যে, এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতেই চীন দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের জন্য কার্যকর কূটনীতি চালিয়েছে।

পর্দার আড়ালে শান্তির কথা বললেও জাতিসংঘে চীন ও রাশিয়া তাদের কৌশলগত অবস্থান বজায় রেখেছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের একটি প্রস্তাবে চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে ভেটো প্রদান করেছে। চীনের প্রতিনিধি ফু কং জানিয়েছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন প্রস্তাব ভুল বার্তা দিতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পুরো প্রক্রিয়ায় চীন বিশ্ব রাজনীতিতে নিজের প্রভাব বিস্তারের এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। প্রকাশ্যে নীরবতা পালন করলেও পর্দার আড়ালের এই সফল কূটনীতি বেইজিংকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যার প্রভাব আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় স্থায়ী শান্তি আলোচনায় স্পষ্ট হতে পারে।